বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) বঙ্গ সফর ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরমে। তাঁর এই সফর ঘিরে প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের খবর, রবিবার বিকেল ৫ মধ্যেই লিখিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) বঙ্গ সফর ঘিরে রিপোর্ট তলব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে আসেন। শনিবার শিলিগুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নিজেই উল্লেখ করেন, তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোটবোনের মতো। আমিও তাঁর মতো বাংলারই মেয়ে এবং বাংলার মানুষদের আমি খুব ভালোবাসি। মমতা হয়তো আমার ওপর রাগ করেছেন, তাই তিনি বা কোনও মন্ত্রী আমাকে স্বাগত জানাতে আসেননি। তবে এটা খুব একটা বড় বিষয় নয়।”
আরও পড়ুন: মাসে ৭০০০ টাকা নিশ্চিত! শুধু এই একটি যোগ্যতা থাকলেই মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা
রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই রাজ্য ও কেন্দ্রের রাজনীতিতে শুরু হয় তীব্র চাপানউতোর। বিজেপির তরফে এই ঘটনাকে রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল ভঙ্গ বলে অভিযোগ তোলা হয় এবং রাজ্য সরকারের সমালোচনায় সরব হয়। এর পাশাপাশি আরও অভিযোগ ওঠে, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের জন্য যে নির্দিষ্ট জায়গা চাওয়া হয়েছিল তাও পাওয়া যায়নি। এই বিষয়টি নিয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা সরব হন।
অন্যদিকে শনিবার সন্ধ্যাতেই এই বিতর্ক নিয়ে স্বপক্ষে জবাবও দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল যা সম্পূর্ণ বেসরকারি ছিল, সরকারি নয়। তাছাড়া তিনি আরও বলেন, ওই অনুষ্ঠান সম্পর্কে রাজ্য সরকারকে আগে থেকে জানানো হয়নি। তিনি জানান, “ওঁর (রাষ্ট্রপতির) অনুষ্ঠানের কথা আমি জানতামই না। এটা কোনও সরকারি অনুষ্ঠানও নয়। তাই এখানে রাজ্যের কোনও ভূমিকা ছিল না। বর্তমানে আমি ধরনায় রয়েছি, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছি। এখন ওটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

আরও পড়ুন: মামদানির বাসভবনের সামনে চাঞ্চল্য! মুসলিম বিরোধী বিক্ষোভে চরম উত্তেজনা, ‘বোমা’ ছোড়ার অভিযোগে আটক ২
এই বিতর্কের মধ্যেই রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে আওয়াজ তোলেন প্রধানমন্ত্রীও। নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ তুলে প্রতিক্রিয়া জানান। এর পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট চাওয়া হয়। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের দপ্তরের তরফ থেকে রবিবার সকালে নবান্নে বার্তা পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরের সময় প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল এবং ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে। ফলে এই ইস্যুতে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।












