বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI (Artificial Intelligence) যেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ছোট থেকে বড় সব রকম সমস্যা যেন হাতে তুড়ি মেরে সমাধান করে দেওয়া যায় AI-এর সাহায্যে। একটি সাধারণ প্রশ্ন টাইপ করলেই মুহূর্তের মধ্যে উত্তর, কোড, ছবি বা পরিকল্পনা, সবকিছুই হাতে চলে আসে। এই প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং দ্রুততা অনেকের কাছেই একপ্রকার ‘জাদুর ছড়ি’ মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো এবং শক্তি ব্যবহারের বাস্তবতা, যা নিয়ে এখন নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে।
AI (Artificial Intelligence) প্রম্পট ব্যবহারে কত বিদ্যুৎ খরচ হয়ে থাকে?
একটি সাধারণ AI প্রম্পটের উত্তর তৈরি করতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশাল ডেটা সেন্টারগুলিতে কাজ হয়। এই সেন্টারগুলিতে হাজার হাজার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার এবং GPU চিপ থাকে, যা একসঙ্গে কাজ করে AI মডেল চালায়। এই সমস্ত যন্ত্র বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ করে। ফলে ব্যবহারকারীর কাছে কাজটি যতই সহজ মনে হোক না কেন, বাস্তবে এর পিছনে একটি বেশ জটিল এবং শক্তি-নির্ভর প্রক্রিয়া কাজ করে।
আরও পড়ুন: জল সংকটে জেরবার শহর, ২০০ কোটির প্রকল্পে বড় সিদ্ধান্ত তৃণমূলের
AI-এর জনপ্রিয়তা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে কম্পিউটিং শক্তির চাহিদা। এর ফলে GPU ভাড়ার খরচও দ্রুত বেড়ে চলেছে। উদাহরণস্বরূপ, আধুনিক GPU চিপের ভাড়া কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে, বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও চাপের মুখে পড়ছে। অনেক সময় পরিষেবায় বিঘ্ন, আউটেজ বা ব্যবহার সীমাবদ্ধতার মতো সমস্যাও দেখা যাচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে চাহিদার তুলনায় অবকাঠামো এখনও পর্যাপ্ত নয়।
এই পরিস্থিতি নতুন নয়। অতীতে রেল, টেলিকম বা ইন্টারনেটের বিস্তারের সময়ও একই ধরনের সমস্যা দেখা গিয়েছিল, যখন চাহিদা দ্রুত বেড়ে গেলেও সেই অনুযায়ী পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে AI ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন কোটি কোটি প্রম্পট ব্যবহারের ফলে সামগ্রিক বিদ্যুৎ খরচ বিশাল আকার ধারণ করছে। একটি প্রম্পটে বিদ্যুৎ খরচ কম হলেও, মোট ব্যবহারের পরিমাণ এটিকে বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত করছে।

আরও পড়ুন: প্রথম দফার ভোটে রেকর্ড নিরাপত্তা! ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোথায় কত? দেখুন তালিকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেটা সেন্টারগুলি ইতিমধ্যেই বিশ্বের মোট বিদ্যুতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করছে এবং ভবিষ্যতে এই হার আরও বাড়তে পারে। AI (Artificial Intelligence) ব্যবহারের ফলে পরিবেশের উপরও প্রভাব পড়ছে, কারণ অধিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আরও বেশি শক্তির উৎসের প্রয়োজন হচ্ছে। তাই প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি এর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি হয়ে উঠেছে। উন্নত চিপ, সবুজ শক্তি এবং সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












