বাংলা হান্ট ডেস্ক : কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রত্যাশা অষ্টম বেতন কমিশন (8th pay commission)। সেই কমিশনের সুপারিশ প্রকাশের আগেই বেতন নির্ধারণের মূল কাঠামোয় পরিবর্তনের দাবি জোরালো হচ্ছে। কর্মচারী সংগঠনগুলির বক্তব্য, বর্তমান সময়ের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় একটি পরিবারের ব্যয়ের ধরন আগের তুলনায় অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তাই ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুরনো মানদণ্ড পর্যালোচনা করে নতুন সূত্র গ্রহণ করা প্রয়োজন। সেই কারণেই ‘৩ ফ্যামিলি ইউনিট’-এর পরিবর্তে ‘৫ ফ্যামিলি ইউনিট’-কে ভিত্তি করার দাবি উঠেছে।
অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AINPSEF)-সহ বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের দাবি, এখনও সরকারি কর্মচারীদের বেতন এমন একটি ধারণার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, যেখানে পরিবারের আকার তুলনামূলকভাবে ছোট বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পদ্ধতি আর বাস্তবসম্মত নয়। সংসার চালানোর খরচ যেভাবে বেড়েছে, তাতে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের সময় পাঁচ সদস্যের পরিবারকে বিবেচনায় আনা উচিত বলে মত তাদের।
সপ্তম বেতন কমিশনের সময় কার্যত ‘৩ ফ্যামিলি ইউনিট’ মডেল অনুসরণ করা হয়েছিল। সেখানে একটি পরিবারের সদস্য হিসেবে কর্মচারী, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানকে ধরা হয়। কর্মচারী সংগঠনগুলির বক্তব্য, বর্তমান ভারতীয় পারিবারিক কাঠামো এই সীমার মধ্যে আটকে নেই। AINPSEF-এর দাবি, অধিকাংশ সরকারি কর্মচারীকেই স্ত্রী-সন্তানের পাশাপাশি নির্ভরশীল বাবা-মায়ের দায়িত্বও বহন করতে হয়।তাই নতুন কমিশনে পরিবার বলতে কর্মচারী, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীল বাবা-মাকে একসঙ্গে ধরে ‘৫ ফ্যামিলি ইউনিট’ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সংগঠনগুলির মতে, অতীতে যে পরিস্থিতি বিবেচনা করে বেতন কাঠামো তৈরি হয়েছিল, এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। বর্তমানে সন্তানের পড়াশোনার খরচ, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা, বাড়িভাড়া, যাতায়াত এবং প্রবীণ বাবা-মায়ের চিকিৎসার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আগের সূত্রে নির্ধারিত ন্যূনতম বেতন দিয়ে একটি পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। যদি সরকার পাঁচ সদস্যের পরিবারকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে শুধু মূল বেতন নয়, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং সামগ্রিক বেতন কাঠামোর উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। অর্থাৎ পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাপনের ব্যয় বেশি বলে স্বীকৃতি মিললে কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
AINPSEF জানিয়েছে, সপ্তম বেতন কমিশনে ৩ ইউনিটের ভিত্তিতে ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ৬,০০০ টাকা করে ৩ ইউনিট অর্থাৎ ১৮,০০০ টাকা। এবার সংগঠনের প্রস্তাব অনুযায়ী ৫ ইউনিট ধরে হিসাব করলে, ৬,০০০ টাকা করে ৫ ইউনিট অর্থাৎ ৩০,০০০ টাকা হতে পারে। এর সঙ্গে প্রায় ৫৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) যোগ করলে অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৪৭,৪০০ টাকা। সংগঠনের দাবি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গণনা করলে পে ম্যাট্রিক্সের লেভেল-১ কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন ৫৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে হওয়া উচিত।
অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশে এই প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব পায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। সেই কারণে কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশের দিকে এখন নজর রয়েছে দেশের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের।