বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশে (India) ভিক্ষাবৃত্তির সমস্যা কতটা কমেছে, আর এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকারি উদ্যোগ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের (Central Government of India ) সমাজকল্যাণ ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের ‘স্মাইল’ (SMILE) প্রকল্পের অধীনে ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত মানুষদের চিহ্নিত করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় ৪৫,০৭৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩,১৩৪ জন পুনর্বাসন সংক্রান্ত সহায়তা পেয়েছেন। অর্থাৎ, চিহ্নিত ব্যক্তিদের প্রায় ২৯.২ শতাংশ এই সহায়তার আওতায় এসেছেন। তবে এই পরিসংখ্যান থেকেই দেশে ভিক্ষুকের মোট সংখ্যা কমেছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। কারণ, প্রকল্পের আওতায় চিহ্নিত মানুষের সংখ্যা এবং দেশের মোট ভিক্ষুকের সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
ভারতকে (India) ভিক্ষাবৃত্তিমুক্ত করার উদ্যোগ, কতটা সফল মোদি সরকারের ‘স্মাইল’ প্রকল্প?
দেশে (India) ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত মানুষের সংখ্যা সম্পর্কে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায় ২০১১ সালের জনগণনা থেকে। সেই হিসাব অনুযায়ী, দেশে মোট ৪,১৩,৬৭০ জন ভিক্ষুক নথিভুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল ২,২১,৬৭৩ এবং মহিলার সংখ্যা ১,৯১,৯৯৭। রাজ্যভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ভিক্ষুকের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক ৮১,২৪৪। এরপর উত্তরপ্রদেশে ৬৫,৮৩৫, বিহারে ২৯,৭২৩, মধ্যপ্রদেশে ২৮,৬৯৫, রাজস্থানে ২৫,৮৫৩ এবং মহারাষ্ট্রে ২৪,৩০৭ জনের নাম নথিভুক্ত হয়েছিল। রাজধানী দিল্লিতে এই সংখ্যা ছিল ২,১৮৭। তবে এই তথ্য ১৫ বছরেরও বেশি পুরনো। তাই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করতে হলে নতুন ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: নেই জেলে যাওয়ার ভয়! গ্রেফতার হতে পারেন জেনেও ফের প্রতিবাদের আহ্বান CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের
ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত মানুষদের শুধু রাস্তা থেকে সরিয়ে আনাই স্মাইল প্রকল্পের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। বরং তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়, খাবার, চিকিৎসা, শিক্ষা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পেতেও তাঁদের সাহায্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ২১৬টি শহরে এই প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রথমে অভাবগ্রস্ত মানুষদের চিহ্নিত করে তাঁদের পরিস্থিতি ও প্রয়োজন মূল্যায়ন করা হয়। তার পর সেই অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত মানুষদের স্বনির্ভর করে তোলাই এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। শহরগুলিতে প্রকল্পের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে।
পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতির কথাও সামনে এসেছে। দিল্লিতে গত ১৮ মাসে ৪০০-রও বেশি মানুষকে দক্ষতা প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় ৩১,০৫৫ জনকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি ৯,৯৩৫ জনকে পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে ৩৫,০০০ মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় এনে পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের পরিধি বর্তমান ২১৬টি শহর থেকে বাড়িয়ে ২৯৫টি শহরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের জন্য ৩৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল বলে তথ্য রয়েছে।

আরও পড়ুন: ঠাকুর দর্শনের জন্য ফ্রি টোটো পরিষেবা, বড় উদ্যোগ বিধায়কের, রইল হেল্পলাইন নম্বর
তবে প্রকল্পের সাফল্য বিচার করতে শুধু কতজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বা কতজন প্রাথমিক সহায়তা পেয়েছেন, সেই হিসাব যথেষ্ট নয়। পুনর্বাসনের পর কতজন স্থায়ীভাবে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারছেন, কতজন নিরাপদ আবাসন ও সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পাচ্ছেন এবং কতজন দীর্ঘমেয়াদে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন, সেগুলিও খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব, অসুস্থতা ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মতো সমস্যাগুলি অনেককে ভিক্ষাবৃত্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই কেবল সাময়িক সাহায্য নয়, দীর্ঘস্থায়ী জীবিকার সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি পরিসংখ্যান থেকে পুনর্বাসন কর্মসূচির অগ্রগতির কিছুটা ধারণা মিললেও, দেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা আদৌ কতটা কমেছে, তার উত্তর পেতে আরও হালনাগাদ তথ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে (India)।














