বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধানসভা ভোটের আগে হঠাৎ ভাইরাল একটি ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। সেই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) নাম জড়ানো নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। এবার সেই ইস্যুতে সরাসরি মুখ খুলল তাঁর দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। তাদের দাবি, ভিডিওটি আসল নয়, বরং কেটে-ছেঁটে ছড়ানো হয়েছে। পুরো ঘটনা সামনে আনতে আইনি পথেও হাঁটছে দল।
হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) বিতর্কিত ভিডিও পাঠানো হয়েছে ফরেন্সিতে
রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির মুখপাত্র কামাল হোসেন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যে ভিডিও ঘিরে এত বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ অংশ খুব শিগগিরই প্রকাশ্যে আনা হবে। তাঁর অভিযোগ, ভিডিওটি ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছে, যাতে হুমায়ুন কবীরকে হেনস্থা করা যায়। তিনি আরও জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেই ভিডিও সেন্ট্রাল ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনার তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থও হয়েছে দল।
কামাল হোসেন দাবি করেন, ভিডিওটি নতুন নয়। তাঁর কথায়, ওই ফুটেজটি ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বরের। কিন্তু তা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে ৮ এপ্রিল। এতদিন পর কেন এই ভিডিও সামনে আনা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এর পিছনে কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।এছাড়া যে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে, সেটি নিয়েও ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন-সহ একাধিক জায়গায় অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই প্রসঙ্গে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকেও নিশানা করেন। তাঁর বক্তব্য, ভিডিওটি যদি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে শুটিংয়ের দিনই কেন তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি? তাঁর অভিযোগ, হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তেই তাঁকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ একদিনে তিন তিনটি অভিযান, ভোটের আগে কলকাতায় উদ্ধার বিপুল নগদ
প্রসঙ্গত, ভোটের মুখে এই স্টিং অপারেশনের ভিডিও সামনে আসায় চাপে পড়েছেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, তাঁর বিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি টাকার লেনদেন সম্পর্কেও মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে। ভিডিওতে আরও দাবি, শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে দিল্লি যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, ভিডিওটি বিকৃত করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।












