বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আইপ্যাক (I-PAC Case) কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং দফতরে অভিযান নিয়ে ইতিমধ্যে জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। বৃহস্পতিবার আই-প্যাক মামলার শুনানিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল ইডি।
সুপ্রিম শুনানিতে যা যা হল… (I-PAC Case)
আদালতে ইডির অভিযোগ, তল্লাশির সময় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে ফেলার কাজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আই-প্যাক অফিসে ইডি অভিযানের মধ্যে গিয়ে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করা হয়, প্রমাণ নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়।
এদিন ইডির সওয়াল, “একটি ঘটনায় বর্তমান আইন মন্ত্রী কোর্টের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আদালতে গিয়ে গন্ডগোল করেছেন। হাই কোর্টের শুনানিতে বিচারপতি নিজে উল্লেখ করেছেন যে গন্ডগোলের জেরে শুনানি করা যায়নি। আমাদের কাছে হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাট রয়েছে।” আদালতে জানায় ইডি।
ইডির মুখে কোর্টের প্রসঙ্গ শুনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মিশ্র বলেন, “যন্তরমন্তরের মতো অবস্থা।” “খুবই বিরল পরিস্থিতি।” বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি মিশ্র। এই সময়েই ইডি উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যন্ত মুছে দেওয়া হয়েছে।
ইডির ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে সলিসিটর জেনারল মেহতার বলেন, পিএমএলএ আইনের ৮ নম্বর ধারা অনুসারে, ইডি শুধু সরকারের একটি সাধারণ দফতর নয়। ইডির অবৈধ ভাবে উপার্জিত সম্পত্তি চিহ্নিত করে, তা বাজেয়াপ্ত করে এবং দখল করে।
ইডি কেন গিয়েছিল আইপ্যাক অফিসে? উত্তর, অভিযোগ তোলা হচ্ছে, এসআইআর-এর তথ্য সংগ্রহ করতে কিন্তু ওই তো ওয়েবসাইটেই পাওয়া যায়। সেটা আনতে যাব কেন? অবৈধ কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আইপ্যাক-এ তল্লাশি করতে গিয়েছিল বলে জানায় ইডি। পাশাপাশি আগেই ইডি ইমেল করে রাজ্যের আধিকারিকদের এর পেছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না বলে জানানো হল ইডি তরফে।

এমন কী ছিল ওই জায়গায়, যা লুকোনোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী পুরো পুলিশবাহিনী নিয়ে চলে গেলেন? কেউ আইনের উর্দ্ধে নয়, সুপ্রিম কোর্টে জোরালো সওয়াল ইডির। ভোট কি আইপ্যাক করাবে? প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। হাই কোর্টে যা যা হয়েছে তা নিয়ে
সুপ্রিম কোর্ট উদ্বিগ্ন বলেও মন্তব্য করে আদালত।
রাজ্যের তরফে কপিল সিব্বল বলেন, হাইকোর্টে কেন মামলার শুনানি না হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এল ইডি? সিব্বলের বক্তব্য, “যদি সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি শোনে, তবে ধরে নিতে হবে যে হাই কোর্ট এই মামলা শুনতে অক্ষম। এই ধারণা তৈরি হবে।” পাল্টা বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আমাদের মুখে কোনও কথা বসাবেন না। আমরা এমন কিছু ধরে নিচ্ছি না।”
আপডেট আসছে…












