বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আইপ্যাক (I-PAC Case) কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং দফতরে অভিযান নিয়ে ইতিমধ্যে জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। বৃহস্পতিবার আই-প্যাক মামলার শুনানিতে যা যা হল তা তুলে ধরা হল…
মধ্যাহ্নবিরতির পর সুপ্রিম শুনানিতে যা যা হল… (I-PAC Case)
আইপ্যাক ইস্যুতে ইডির আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মোট চারটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ চায় ইডি। এই নিয়ে সওয়াল করে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “আইন অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মচারী সৎ উদ্দেশ্যে নিজের দায়িত্ব পালনে কাজ করলে, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানো যায় না।” ইডির তল্লাশি অভিযান সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করতে একাধিক FIR হয়েছে।
এদিনের সওয়াল-জবাব শেষে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের। আদালত বলে, ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে রাজ্য সরকারের সংস্থাগুলি হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না সেই প্রশ্ন উঠে এসেছে এই মামলায়। যেই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। এরপরই মামলার সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।
আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষের কাছ থেকে হলফনামা তলব করা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে ওই এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশও। একই সাথে ইডির আর্জিতে সাড়া দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুলিশিও তদন্তের উপরেও জারি হয়েছে স্থগিতাদেশ।
‘কোনও অপরাধী যাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার আড়ালে লুকিয়ে রক্ষা না পেয়ে যায়’, আইপ্যাক মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। দেশে যাতে আইনের শাসন বজায় থাকে এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের সংস্থা যাতে স্বাধীন ভাবে নিজের কাজ করতে পারে, তার জন্য এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি বলেই মত সুপ্রিম কোর্টের।
সুপ্রিম পর্যবেক্ষণ, “কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারই কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই এটাও যেমন ঠিক, তেমনই যদি কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা সৎ উদ্দেশ্যে কোনও গুরুতর অপরাধের তদন্ত করে, তাহলে কি শুধুমাত্র এটা ‘দলের কাজ’ বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে চালানোর ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা যায়? ” প্রশ্ন আদালতের।
PMLA আইনের ৬৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী যদি ইডির আধিকারিকেরা অনুমোদনপত্র নিয়েই তল্লাশি চালিয়ে থাকেন, তা হলে তাঁরা সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করছিলেন বলেই ধরে নেওয়া যায় বলে মন্তব্য বিচারপতির। সব শেষে আগামী ৩ফেব্রুয়ারী আইপ্যাক মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে যা যা হয়েছিল…
আদালতে ইডির অভিযোগ, তল্লাশির সময় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে ফেলার কাজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আই-প্যাক অফিসে ইডি অভিযানের মধ্যে গিয়ে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করা হয়, প্রমাণ নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়।
এদিন ইডির সওয়াল, “একটি ঘটনায় বর্তমান আইন মন্ত্রী কোর্টের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আদালতে গিয়ে গন্ডগোল করেছেন। হাই কোর্টের শুনানিতে বিচারপতি নিজে উল্লেখ করেছেন যে গন্ডগোলের জেরে শুনানি করা যায়নি। আমাদের কাছে হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাট রয়েছে।” আদালতে জানায় ইডি।

ইডির মুখে কোর্টের প্রসঙ্গ শুনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মিশ্র বলেন, “যন্তরমন্তরের মতো অবস্থা।” “খুবই বিরল পরিস্থিতি।” বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি মিশ্র। এই সময়েই ইডি উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যন্ত মুছে দেওয়া হয়েছে।
ইডির ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে সলিসিটর জেনারল মেহতার বলেন, পিএমএলএ আইনের ৮ নম্বর ধারা অনুসারে, ইডি শুধু সরকারের একটি সাধারণ দফতর নয়। ইডির অবৈধ ভাবে উপার্জিত সম্পত্তি চিহ্নিত করে, তা বাজেয়াপ্ত করে এবং দখল করে।
ইডি কেন গিয়েছিল আইপ্যাক অফিসে? উত্তর, অভিযোগ তোলা হচ্ছে, এসআইআর-এর তথ্য সংগ্রহ করতে কিন্তু ওই তো ওয়েবসাইটেই পাওয়া যায়। সেটা আনতে যাব কেন? অবৈধ কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আইপ্যাক-এ তল্লাশি করতে গিয়েছিল বলে জানায় ইডি। পাশাপাশি আগেই ইডি ইমেল করে রাজ্যের আধিকারিকদের এর পেছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না বলে জানানো হল ইডি তরফে।
এমন কী ছিল ওই জায়গায়, যা লুকোনোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী পুরো পুলিশবাহিনী নিয়ে চলে গেলেন? কেউ আইনের উর্দ্ধে নয়, সুপ্রিম কোর্টে জোরালো সওয়াল ইডির। ভোট কি আইপ্যাক করাবে? প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। হাই কোর্টে যা যা হয়েছে তা নিয়ে
সুপ্রিম কোর্ট উদ্বিগ্ন বলেও মন্তব্য করে আদালত।
আরও পড়ুন: ‘আমাদের মুখে কথা বসাবেন না, আমরা এমন কিছু..’, রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বলকে যা বলল সুপ্রিম কোর্ট
রাজ্যের তরফে কপিল সিব্বল বলেন, হাইকোর্টে কেন মামলার শুনানি না হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এল ইডি? সিব্বলের বক্তব্য, “যদি সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি শোনে, তবে ধরে নিতে হবে যে হাই কোর্ট এই মামলা শুনতে অক্ষম। এই ধারণা তৈরি হবে।” পাল্টা বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আমাদের মুখে কোনও কথা বসাবেন না। আমরা এমন কিছু ধরে নিচ্ছি না।”












