মালদহের মহানন্দায় বালি মাফিয়াদের দাপট, সব দেখেও কেন ‘চুপ’ প্রশাসন?

Published on:

Published on:

Illegal sand mining is increasing in Mahananda
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: আবার সক্রিয় হয়ে উঠলো বালি মাফিয়ারা। চাঁচল ২ ব্লকের (Chanchal 2 Block) চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের হোসেনপুর ও পুরাতন খানপুর এলাকায় নতুন করে দৌরাত্ম্য বাড়লো অবৈধ বালি(Illegal Sand Mining) পাচারকারীদের। সরকারকে রাজস্ব না দিয়েই চলছে এই কারবার। অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনকে সব জানানো সত্বেও নেওয়া হচ্ছে না কোন ব্যবস্থা।

বাড়ছে বালি পাচারের(Illegal Sand Mining) অবৈধ কাজ

উত্তরবঙ্গে সর্বত্রই চলছে নদীর খনন ও বালি পাচারের অবৈধ কাজ। মহানন্দার জল কমতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে এই বালি মাফিয়ারা। বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়েছে যে, সরকার যাদের অনুমতি দিয়েছে, যারা রাজস্ব দেয় সরকারকে, তারাও ঘাট থেকে বালি তুলতে পারছেন না। আর এই রকম অবৈধভাবে নদী খননের কাজ বাড়ায় বিপদ হতে পারে বলে আতঙ্কিত এলাকার মানুষ।

এলাকার বাসিন্দা আবু কালাম আজাদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকার তো বটেই দিনের আলোতেও চলছে নদী খনন ও বালি পাচারের কাজ। বেআইনি খননের ফলে নদীর নাব্যতা সর্বত্র এক থাকছে না। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম নবী আজাদ বলেন, অবৈধভাবে বালি কাটার ফলে, নদী তার নিজস্ব গতিপথ হারিয়ে ফেলছে। বর্ষার সময় ভাঙন হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক বাড়িঘর রাস্তাঘাট নদীতে চলে গেছে। বহু কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, স্কুল নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার মুখে দাড়িয়ে।

আরও পড়ুন:শহরে পরিবহণে সবুজ সংযোজন, সমীক্ষার ভিত্তিতে ২৫টি সিএনজি বাস নামছে রাস্তায়

চাঁচল এর মহাকুমা শাসক ঋত্বিক হাজরা বলেন, সরকারিভাবে বালি উত্তোলনের অনুমতি যারা পেয়েছেন, শুধুমাত্র তারা কাজ করতে পারবেন, এতে সরকারের রাজস্ব আসবে। কিন্তু কোনও ভাবেই অবৈধভাবে নদী খনন করা যাবে না। বেআইনি এমন কাজ যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। কিন্তু প্রশাসন সেভাবে কড়া না হওয়ায় আতঙ্কে ভুগছে সাধারণ মানুষ। যে কারণে চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গোয়ালপাড়া, বাহারাবাদ, খানপুর, হোসেনপুর, তেলাগাছি প্রভৃতি গ্রামের মানুষ নদী ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

আরও পড়ুন:একটু ভুলেই বাতিল হতে পারে আপনার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সমস্যায় পড়ার আগে করুন এই ছোট্ট কাজ

Illegal sand mining is increasing in Mahananda

বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বাড়াতে যাদের সরকারি নথি আছে, তারাও কাজ করতে পারছেন না। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে বারবার বলেও কোনও লাভ হয়নি বলে তাদের অভিযোগ আর পুরো কাজটাই চলছে সরকারকে ফাঁকি দিয়ে। সরকারি ঠিকাদারদের অভিযোগ, নবান্ন থেকে সরকারি অনুমতি নিয়ে আমাদের সব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কাজ করতে দিচ্ছে না। অথচ বেআইনিভাবে প্রকাশ্যে কিছু বালি মাফিয়া বালি তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এইভাবে মহানন্দা নদীতে বালি মাফিয়াদের দাপট উত্তরোত্তর বাড়ছে। সরকার এখন এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেয় সেদিকে রয়েছে সকলের, পাখির চোখ।