বাংলাহান্ট ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) চাইবাসা ও সংলগ্ন এলাকা এখন আতঙ্কের ছায়ায়। একটি দলছুট দাঁতালের তাণ্ডবে ইতিমধ্যেই কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে এলাকায় ‘এলিফ্যান্ট ইমার্জেন্সি’ বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে বন দপ্তর। গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে বহু বাসিন্দাকে। রাত নামলেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যাচ্ছে, কারণ তখনই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে ওই আক্রমণাত্মক হাতি।
ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) হাতির তাণ্ডবে মৃত ২২, জারি জরুরি অবস্থা
বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই তিনবার ঘুমপাড়ানি গুলি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হয়নি। প্রতিদিন প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দাঁতালটি। তার গতিবিধির উপর নজর রাখতে ১০০ জনেরও বেশি বনকর্মী ও আধিকারিকের একটি বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। ড্রোন ও নজরদারি টিমের সাহায্যে হাতিটির অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে, তবুও মুহূর্তে মুহূর্তে সে দিক বদল করায় কাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে নতুন জঙ্গিঘাঁটির শিলান্যাসে হাজির হাফিজ সৈয়দ? ভাইরাল ছবি ঘিরে শুরু হইচই
বন দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, হাতিটি বর্তমানে ‘মস্ত’ বা Musth অবস্থায় রয়েছে। এই সময় পুরুষ হাতির শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে তারা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। সেই কারণেই সাধারণ ঘুমপাড়ানি ওষুধে সাড়া দিচ্ছে না দাঁতালটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থায় হাতির কাছে যাওয়া যেমন বিপজ্জনক, তেমনই তাকে জোর করে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
বিভাগীয় বন আধিকারিক কুলদীপ মীনা জানিয়েছেন, একটি মাত্র হাতির আক্রমণে এত মানুষের মৃত্যু এর আগে ঝাড়খণ্ডে দেখা যায়নি। রাজ্যে বর্তমানে আনুমানিক ৫৫০ থেকে ৬০০টি হাতি রয়েছে। জঙ্গলঘেঁষা গ্রামগুলিতে হাতির হানা এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। রামগড়, বোকারো, হাজারিবাগ-সহ একাধিক জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে হাতির আক্রমণে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন: ডিজিটাল অর্থনীতিতে ঘটবে বিপ্লব! এবার যা করে দেখাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ, জানলে চমকে উঠবেন
পরিসংখ্যান বলছে, ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ঝাড়খণ্ডে হাতির হামলায় কমপক্ষে ১,৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন দপ্তর ও বিশেষজ্ঞদের মতে, লাগাতার বন উজাড়, খনন ও উন্নয়ন প্রকল্পের ফলে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে যাওয়াই মানুষ ও হাতির সংঘাতের মূল কারণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গ্রামগুলিতে কড়া নজরদারি, রাতের টহল এবং সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।













