বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) মুলতানে লস্কর-ই-তৈবার একটি নতুন জঙ্গিঘাঁটি গড়ে তোলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা কিছু ছবিকে ঘিরে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হচ্ছে যে ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসী হামলার অন্যতম মূলচক্রী হাফিজ সৈয়দ নিজে ওই জঙ্গিঘাঁটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে গিয়েছিলেন। ছবিগুলির সত্যতা সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল যাচাই করেনি, তবে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শিলান্যাসের আচারানুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিটি হাফিজ সৈয়দই।
পাকিস্তানে (Pakistan) নতুন জঙ্গিঘাঁটির শিলান্যাসে হাজির হাফিজ সৈয়দ!
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের নিরাপত্তা মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, পাকিস্তান যে এখনও ভারত-বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলিকে প্রকাশ্যেই মদত দিয়ে চলেছে, এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। অতীতেও একাধিকবার ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, আন্তর্জাতিক মহলের সামনে সন্ত্রাস দমনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে জঙ্গি নেটওয়ার্ককে আশ্রয় ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।
আরও পড়ুন: বিমানবন্দরের ৯ কিমির মধ্যে আর ব্যবহার করা যাবে না এই জিনিস! নিষেধাজ্ঞা জারি করল কেন্দ্র
উল্লেখ্য, হাফিজ সৈয়দের নাম জড়িয়ে রয়েছে একাধিক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলার পাশাপাশি ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা হামলার ষড়যন্ত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলির অভিযোগ। উপত্যকায় জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। ভারত একাধিকবার হাফিজকে বিচারের জন্য পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানালেও ইসলামাবাদ তাতে সাড়া দেয়নি।
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে পাকিস্তান একসময় হাফিজকে গ্রেপ্তার করলেও পরে তিনি মুক্তি পেয়ে যান। ভারতের মতে, সেই গ্রেপ্তার ছিল শুধুই ‘চোখে ধুলো দেওয়া’। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এই জঙ্গিনেতার মাথার দাম এক কোটি মার্কিন ডলার ঘোষণা করেছে আমেরিকা। তবুও তাঁর গতিবিধি ও কার্যকলাপ নিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ডিজিটাল অর্থনীতিতে ঘটবে বিপ্লব! এবার যা করে দেখাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ, জানলে চমকে উঠবেন
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, হাফিজ বর্তমানে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর নিরাপত্তায় থাকা গোপন ডেরায় অবস্থান করছেন। তাঁর পুত্র তলহা সৈয়দের বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। মুলতানে নতুন জঙ্গিঘাঁটি তৈরির অভিযোগ সত্যি হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।












