বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিমানবন্দর এলাকায় উড়ান নিরাপত্তার জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল ভারত (India) সরকার। আগে বিমানবন্দরের পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত লেজার লাইট, ড্রোন, ফানুস বা অনুরূপ আলোর উৎস নিষিদ্ধ থাকলেও, এই নিষেধের পরিধি এখন বাড়িয়ে প্রায় ৯ কিলোমিটার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য উড়ান অবতরণ ও উড্ডয়নের সময় পাইলটদের দৃষ্টিবিভ্রম ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো।
বিমানবন্দরে ড্রোন বা লেজার জাতীয় জিনিস ব্যবহার করা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ভারতের (India)!
বিমান পাইলটদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে উৎসব, বিবাহ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত তীব্র লেজার আলো বা লাইট শো ল্যান্ডিং-এর সময় তাদের দৃষ্টিশক্তিকে প্রভাবিত করে, যা মুহূর্তের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলা, যখন রানওয়ের আলো ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না, তখন হঠাৎ চোখে পড়া উজ্জ্বল আলো মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করে। ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার গতিতে নামার সময় এই ধরনের বিঘ্ন অসহনীয় হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: মাত্র ২৬ বছর বয়সেই ইতিহাস গড়ার পথে সিমরন! সাধারণতন্ত্র দিবসে পুরুষদের CRPF ইউনিটকে দেবেন নেতৃত্ব
দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের আশেপাশে, বিশেষ করে কলকাতায়, উৎসবের সময় লেজার শো আয়োজনের ঘটনা আগে ঘটেছে। এরকম একটি ঘটনায়, ভিআইপি রোডে দুর্গাপুজোর সময় লেজার শো চালু থাকায় পাইলটরা এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, যার ফলে শেষ পর্যন্ত শোটি বন্ধ করতে হয়েছিল। শুধু লেজার নয়, উৎসবে উড়ানো ফানুস, ড্রোন বা ঘুড়িও বিমানের ইঞ্জিনে প্রবেশের মাধ্যমে বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এয়ারক্রাফ্ট রুলস, ১৯৩৭-এর সংশোধনীর মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুসারে, বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় এই ধরনের কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া, ল্যান্ডিং বা টেক অফে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও সরকারকে দেওয়া হয়েছে। লেজার লাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে, প্রশাসন সরাসরি তা বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

আরও পড়ুন: পিছিয়ে গেল রেলের ২২,০০০ শূন্যপদে নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়া! এই দিন থেকে হবে শুরু
এই সিদ্ধান্তকে উড়ান নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লেজার, ড্রোন ও ফানুসের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে শতাধিক যাত্রী ও বিমানচালকের নিরাপত্তা অনেকাংশে নিশ্চিত হবে এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় উৎসব আয়োজনকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।












