বাংলাহান্ট ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) শিল্পায়নে একটি যুগান্তকারী প্রকল্প হাতে নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সেক্টর-১১ এলাকায় প্রায় ২৫০ একর জমিতে একটি অত্যাধুনিক ‘ফিনটেক পার্ক’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি কেবল একটি আইটি পার্ক নয়, বরং ব্যাংকিং প্রযুক্তি, ডিজিটাল পেমেন্ট, ব্লকচেইন, ইনশিওরটেক ও ইনভেস্টটেকের মতো ক্ষেত্রে একটি সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে।
ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিপ্লবের পথে উওর প্রদেশ (Uttar Pradesh)
এই পার্কের কৌশলগত অবস্থানই এর সবচেয়ে বড় শক্তি। এটি রয়েছে নতুন নির্মীয়মান নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় এবং দিল্লি-এনসিআর-এর সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের সুবিধাযুক্ত। এই অবস্থান বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে আকর্ষণ করবে বলে আশা করছে প্রশাসন। প্রকল্পটি চালু হলে এখানে স্টার্টআপ থেকে শুরু করে বৈশ্বিক ফিনটেক দৈত্যদের জন্য বিশ্বমানের অবকাঠামো ও সহায়ক পরিষেবা পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: মাত্র ২৬ বছর বয়সেই ইতিহাস গড়ার পথে সিমরন! সাধারণতন্ত্র দিবসে পুরুষদের CRPF ইউনিটকে দেবেন নেতৃত্ব
এটির বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন প্রস্তুত করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক মানের কনসালটেন্সি সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিপিআর চূড়ান্ত হওয়ার পরেই জমি বরাদ্দ ও নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগোবে। সরকারি হিসাবে, এই পার্ক থেকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষত ডেটা অ্যানালিটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি ও আর্থিক সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে।
শিল্প বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ উত্তরপ্রদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজ্যটি সেমিকন্ডাক্টর ও ডেটা সেন্টারের পাশাপাশি এখন উচ্চ-প্রযুক্তি ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস খাতেও বড় বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাইছে। ফিনটেক পার্ক সফল হলে উত্তরপ্রদেশ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির মানচিত্রে একটি অগ্রণী হাব হিসেবে আবির্ভূত হবে।

আরও পড়ুন: বদলে যাবে করকাঠামো? আসন্ন বাজেটে লাভের মুখ দেখতে পারেন দম্পতিরা, কতটা ছাড় মিলবে?
সর্বোপরি, এই উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপর ব্যাপক ফোকাসেরই প্রতিফলন। এটি রাজ্যের তরুণ, প্রযুক্তি-সক্ষম জনশক্তির জন্য বিপুল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে এবং উত্তরপ্রদেশকে একটি আধুনিক, বৈচিত্র্যময় ও টেকসই শিল্প অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।












