বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) অন্যতম ‘ড্রাই স্টেট’ হিসেবে পরিচিত মিজোরামে (Mizoram) মদ সংক্রান্ত নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল জেডপিএম নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা কঠোর মদ্যপান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এবার সীমিত পরিসরে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় চিকিৎসার প্রয়োজনে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে অ্যালকোহল সেবনের অনুমতি দেওয়া হবে। এর জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘রেড কার্ড’ পারমিট ব্যবস্থা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের আবগারি দপ্তর এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। সরকারের দাবি, এটি সাধারণ মানুষের জন্য মদ্যপানের অনুমতি নয়, বরং চিকিৎসাগত প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে তৈরি একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা।
চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতের (India) ড্রাই স্টেট মিজোরামে মিলবে মদ্যপানের অনুমতি:
আবগারি দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র যাঁদের শারীরিক অবস্থার কারণে চিকিৎসক অ্যালকোহল সেবনের পরামর্শ দেবেন, তাঁরাই এই বিশেষ পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের প্রথমে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন জমা দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল সুপারিটেন্ডেন্ট সেই নথি যাচাই করবেন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেবেন। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীকে ‘রেড কার্ড’ পারমিট দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করতে চাইছে যে, চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনও কারণে এই সুবিধার অপব্যবহার না হয় (India)।
আরও পড়ুন: ৮.২ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ভাঙল ঘরবাড়ি! এশিয়ার এই দেশে জারি সুনামি সতর্কতা
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ‘রেড কার্ড’ পারমিটের মেয়াদ হবে এক বছর এবং এর জন্য আবেদনকারীকে ৫ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে পারমিট নবীকরণের সুযোগও থাকবে। পারমিটধারীরা শুধুমাত্র আইজলে আবগারি দপ্তর পরিচালিত নির্দিষ্ট দোকান থেকে মদ কিনতে পারবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সেখানে বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ কম মূল্যে অ্যালকোহল সরবরাহ করা হবে। প্রশাসনের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিরা সহজে এবং নিয়ন্ত্রিত উপায়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবেন।
তবে পারমিট থাকলেই যে ইচ্ছামতো মদ্যপান করা যাবে, তা নয়। নতুন আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনও জনসমাগমস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হোটেল বা প্রকাশ্য স্থানে অ্যালকোহল সেবন করা যাবে না। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকদের জন্যও বিশেষ পারমিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে স্থানীয় কৃষিজ পণ্য থেকে তৈরি ওয়াইন ও বিয়ার উৎপাদন এবং বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আদা, কলা, ড্রাগন ফল, আনারস, আমলকি, পেয়ারা, কামরাঙা, আখ, কাঁঠাল, তরমুজ এবং হানিডিউ মেলনের মতো ফল ও কৃষিজ পণ্য ব্যবহার করে স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষক এবং ক্ষুদ্র উৎপাদকদের নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: গ্রেফতার ‘পুষ্পা’! নেপাল সীমান্ত থেকে ফলতার জাহাঙ্গিরকে ধরল এসটিএফ
মিজোরামে মদের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস প্রায় তিন দশকের পুরোনো। ১৯৯৫ সালে মিজোরাম লিকার টোটাল প্রোহিবিশন অ্যাক্ট পাস হওয়ার পর মদ উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং ১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে আইনটি কার্যকর হয়। পরে ২০১৪ সালে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানে মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়া হলেও ২০১৯ সালে ক্ষমতায় আসা মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট সরকার পুনরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এবার জেডপিএম সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তকে অনেকেই বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। চিকিৎসাগত প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে (India)।













