বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার দেশের একটি রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের বেতনের (Monthly Salary) প্রসঙ্গে একটি চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। মূলত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ বুধবার হায়দরাবাদে সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ (CESS) আয়োজিত ১৬ তম অর্থ কমিশনের সুপারিশের উপর এক সম্মেলনে তেলেঙ্গানার মুখ্য সচিব কে. রামকৃষ্ণ রাও এই তথ্য প্রকাশ করেন। যেখানে তিনি বলেন, গত দশকে ওই রাজ্যের মাসিক বেতন এবং পেনশন বিল চারগুণ বেড়ে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সেখানকার কিছু সিনিয়র সাফাইকর্মী এবং ড্রাইভার IAS অফিসার এবং রাজ্যপালের চেয়ে বেশি বেতন পাচ্ছেন। যার ফলে রাজ্যের আর্থিক দায় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তেলেঙ্গানায় বিপুল বেতন (Monthly Salary) পাচ্ছেন সাফাইকর্মী-ড্রাইভাররা:
উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালে যখন তেলেঙ্গানা গঠিত হয়, তখন ওই রাজ্যের মাসিক বেতন এবং পেনশন বিল ছিল প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা। যা এখন ৬,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে প্রায় ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি গিয়েছে। মুখ্যসচিব স্পষ্ট করে জানান যে, এই বৃদ্ধির নেপথ্যে মূল কারণ হল বিদ্যুৎ বিভাগ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলিতে চলমান বেতন সংশোধন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে বিদ্যুৎ সেক্টরে একজন মুখ্য ইঞ্জিনিয়ারের বেতনও প্রতি মাসে ৭ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। যেখানে ৩০ বছর ধরে চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকা সাফাইকর্মীরা ২ লক্ষ টাকা এবং গাড়ি চালকরা ১ লক্ষ টাকার বেশি বেতন পান। গ্রেটার হায়দ্রাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (GHMC) প্রায় ২ শতাংশ নিয়মিত সাফাইকর্মীরা ৭০,০০০ টাকা বেতন এবং ভাতা পান। যা প্রাথমিক স্তরের কর্মীদের ২৮,০০০ টাকার বেতনের চেয়ে অনেক বেশি।

বেতন বৃদ্ধির কারণ কী: এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মূল কারণ হল, সরকার দ্বারা নিযুক্ত বেতন সংশোধন কমিশন কর্তৃক ‘ফিটমেন্ট’ শতাংশ এবং মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি। এই সংশোধনগুলি প্রায়শই নির্বাচনী চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। যা কর্মচারীদের স্বস্তি প্রদান করে কিন্তু রাজ্যের স্থায়ী ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
আরও পড়ুন: ১ ওভারে ৩৬ রান খরচ! IPL ২০২৬-এর আগে KKR-এর চিন্তা বাড়ালেন এই ভারতীয় বোলার
উল্লেখ্য যে, বিদ্যুৎ বিভাগের বেতন সংশোধন প্রতি চার বছর অন্তর সম্পন্ন হয়। এর ফলে বেতন কাঠামো সম্পূর্ণরূপে বদলে গিয়েছে। যার কারণে কিছু কর্মচারীর আয় দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও ছাড়িয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: চিনা স্মার্টফোনে আর নেই ভরসা? প্রথমবারের মতো ভারতে কমল চাহিদা, সামনে এল কারণ
তেলেঙ্গানায় সাফাইকর্মী এবং ড্রাইভাররা বেশি আয় করেন: সামগ্রিকভাবে এই বিষয়টি থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, ওই রাজ্যের আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন কেবল বেতন এবং পেনশনের পেছনে ব্যয় করা হয়। যদিও বেতন পাওয়া কর্মীদের জন্য স্বস্তির বিষয়, কিন্তু সাফাইকর্মী এবং চালকদের বেতনের এই বৈষম্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। শুধু তাই নয়, ক্রমবর্ধমান স্থির ব্যয়ের আবহে উন্নয়নমূলক কাজ এবং নতুন প্রকল্পের জন্য তহবিল সংগ্রহ রাজ্য সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।












