বাংলা হান্ট ডেস্ক: কয়েক বছর আগেও ভারতীয় বাজারে শুধুমাত্র চিনা স্মার্টফোনের (Chinese Smartphone) আধিপত্য বজায় থাকতো। যদিও, এখন সেই চিত্র অনেকটাই পাল্টেছে। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে ভারতে চিনা স্মার্টফোন কোম্পানিগুলির জন্য আশঙ্কার ঘণ্টা বেজে উঠেছে। ইতিমধ্যেই একাধিক চিনা স্মার্টফোন কোম্পানির বিক্রি কমেছে। যার ফলে কমেছে রেভিনিউও। গত অর্থবর্ষে (২০২৫ অর্থবর্ষ) প্রথমবারের মতো ভারতে Xiaomi থেকে শুরু করে Oppo, OnePlus এবং Realme-র মতো চিনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের বিক্রি কমেছে। ইকোনমিক টাইমসের মতে, এন্ট্রি এবং মিড-লেভেল সেগমেন্টে চাহিদা কমে যাওয়া এবং প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের প্রতি গ্রাহকদের ঝোঁকের কারণে এই পতন ঘটেছে।
প্রথমবারের মতো ভারতে চিনা স্মার্টফোনের (Chinese Smartphone) চাহিদা কমেছে:
সর্বশেষ নিয়ন্ত্রক ফাইলিং অনুসারে, ভারতের বাজারে থাকা ৯ টি প্রধান চিনা ইলেকট্রনিক্স কোম্পানির সম্মিলিত আয় ২০২৫ অর্থবর্ষে ৪.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তার আগের অর্থবর্ষে এই সংস্থাগুলির রেভিনিউ প্রায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এদিকে, মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ফার্ম কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের রিসার্চ ডাইরেক্টর তরুণ পাঠকের মতে, ২০,০০০ টাকার কম দামের স্মার্টফোনের ভ্যালু অংশীদারিত্ব ২০২৩ সালে ৩৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালে ২৯ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

রিটেল ভ্যালুর হ্রাস: কাউন্টারপয়েন্টের মতে, ভারতে চিনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলির (যেখানে Vivo এবং Lenovo-র মালিকানাধীন Motorola-ও সামিল রয়েছে) রিটেল ভ্যালুর অংশীদারিত্ব ২০২৩ সালে ৫৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালে ৪৮ শতাংশ হয়েছে। তবে, ভলিউমের দিক থেকে তাদের বাজার অংশীদারিত্ব এখনও ৭৩ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ‘উত্তপ্ত’ রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল! রেগে গিয়ে ‘হেডবাট’ অধিনায়কের, ভাইরাল ভিডিও
প্রিমিয়াম সেগমেন্টে বিপুল বৃদ্ধি: জানিয়ে রাখি যে,বর্তমানে ৪৫,০০০ টাকার ওপরে দামের প্রিমিয়াম স্মার্টফোন সেগমেন্টের অংশীদারিত্ব বেড়েছে। ২০২৩ সালে এই হার ছিল ৩৬ শতাংশ। যেটি ২০২৫ সালে ৪৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এদিকে, ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতে iPhone প্রস্তুতকারী সংস্থা Apple-এর বিক্রয় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯,৩৭৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এদিকে, Samsung-এর বিক্রয় ১২ শতাংশ বেড়ে ১.১১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। যেখানে কোরিয়ান কোম্পানি এলজি ইলেকট্রনিক্সও ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পরিলক্ষিত করেছে। উল্লেখ্য যে, বেশিরভাগ চিনা ব্র্যান্ড লোকসানের সম্মুখীন হলেও, Vivo-র আয় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, Vivo তার প্রিমিয়াম পোর্টফোলিও এবং অফলাইন রিটেল নেটওয়ার্কের ওপর শক্তিশালী দখলের কারণে পরিবর্তিত বাজারের প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম হয়েছে।
আরও পড়ুন: PNB-র গ্রাহকদের জন্য বড় খবর! Fixed Deposit-এ সুদের হারে পরিবর্তন, এই স্কিমে সর্বোচ্চ রিটার্ন
মোট ব্যয়ও কমেছে: RoC (রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজ)-র তথ্য অনুসারে, ভারতীয় গ্রাহকরা ২০২৫ অর্থবর্ষে ৯ টি প্রধান চিনা ব্র্যান্ডের ইলেকট্রনিক পণ্যের জন্য প্রায় ১.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় কম। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, মেমোরি-চিপ সহ যন্ত্রাংশের দামের তীব্র বৃদ্ধি এবং রুপির দুর্বলতার কারণে স্মার্টফোনের দাম বাড়ছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে লোয়ার ও মিড-প্রাইস সেগমেন্টের ওপর। যেখানে গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা ইতিমধ্যেই সীমিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে এবং প্রিমিয়াম সেগমেন্টে চাহিদা শক্তিশালী থাকে, সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ভারতীয় বাজার চিনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলির জন্য আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে।












