দিল্লিতে শুরু ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চার দিনের বৈঠক! কোন কোন বিষয়ে হবে আলোচনা?

Published on:

Published on:

India-Bangladesh a four-day meeting between the border guard forces begun in Delhi.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারত ও বাংলাদেশের (India-Bangladesh) সীমান্ত পরিস্থিতি এবং অনুপ্রবেশ রোধে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সোমবার নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ (Border Security Force) ও বিজিবি (Border Guard Bangladesh)-র ডিরেক্টর জেনারেল পর্যায়ের চারদিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। তবে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সূচনার কয়েক ঘণ্টা আগেই সীমান্তে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ এলাকায় কয়েকদিন ধরে অবস্থান করা বেশ কয়েকজন অনুপ্রবেশকারী আচমকাই সেখান থেকে উধাও হয়ে গিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি দাবি করেছে, ওই ব্যক্তিদের বিএসএফ পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে। যদিও এ বিষয়ে ভারতীয় পক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

দিল্লিতে শুরু ভারত বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চার দিনের বৈঠক (India-Bangladesh):

এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে। বিজিবি-র পাশাপাশি সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর সদস্যদেরও। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, জামালপুর এবং খাগড়াছড়ি জেলার সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অনুপ্রবেশ, পুশব্যাক এবং সীমান্তে বেআইনি গতিবিধি নিয়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে যেকোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীগুলিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (India-Bangladesh)।

India-Bangladesh a four-day meeting between the border guard forces begun in Delhi.

আরও পড়ুন: টাকা দেওয়ার আগে অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন ফোনে! কী প্রশ্ন করা হচ্ছে জেনে নিন

এদিকে, বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ সোমবার পুশব্যাক ইস্যুতে ভারতের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও দ্বিপাক্ষিকভাবে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। তিনি জানান, এই বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ভারতকে ১২ থেকে ১৩টি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তে একতরফা পদক্ষেপের পরিবর্তে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো মেনে সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা সরকারের উদ্বেগও তিনি প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:  সরকারি কর্মীদের বদলিতে বড় সিদ্ধান্ত, নতুন নির্দেশিকা জারি নবান্নের

সম্প্রতি চেন্নাই থেকে ৩৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন শ্যামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, যখনই কোনও পুশইন বা পুশব্যাকের খবর বাংলাদেশের নজরে আসে, তখনই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাঁর আশা, ভারত বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে যথাযথ যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেবে। সীমান্তে মানবাধিকার, নিরাপত্তা এবং আইনগত বিষয়গুলির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার উপরও তিনি জোর দেন। তাঁর মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং স্বচ্ছ যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বৈঠকে বিজিবি-র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে। অপরদিকে, বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকরাও বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ, মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশা, সীমান্ত সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পথও এই বৈঠকের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হবে।