বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা তথা DRDO-র গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্ট (GTRE) ৩৫০ কিলোগ্রাম থ্রাস্ট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এক্সপান্ডেবল টার্বোজেট ইঞ্জিন (Turbojet Engine) সফলভাবে উদ্ভাবন করেছে। এই অর্জনকে দেশের প্রতিরক্ষা সেক্টরে আত্মনির্ভরশীলতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে টার্বোজেট ইঞ্জিন (Turbojet Engine) তৈরি করল ভারত:
আজাদ ইঞ্জিনিয়ারিং ইঞ্জিনটি সম্পূর্ণ করে DRDO-কে সরবরাহ করেছে: জানিয়ে রাখি যে, এই ইঞ্জিনটির উৎপাদন ও অ্যাসেম্বলির দায়িত্ব হায়দরাবাদে স্থিত আজাদ ইঞ্জিনিয়ারিংকে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের ২২ জুলাই, সংস্থাটি ইঞ্জিনটির কাজ সম্পন্ন করে DRDO-র GTRE-তে সরবরাহ করে। সংস্থাটির CEO, রাকেশ চোপদার, আনুষ্ঠানিকভাবে ইঞ্জিনটি DRDO-র ডাইরেক্টর জেনারেল (অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমস), ডঃ কে. রাজলক্ষ্মী মেনন এবং GTRE-র নির্দেশক, ডঃ এস.ভি. রামানামূর্তির কাছে হস্তান্তর করেন।

বহু বছরের গবেষণা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ফল: উল্লেখ্য যে, এই ইঞ্জিনটির উদ্ভাবন বহু বছরের গবেষণা, নিখুঁত ইঞ্জিনিয়ারিং, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং DRDO ও ভারতীয় শিল্পের মধ্যে দৃঢ় সহযোগিতার ফল। টার্বোজেট ইঞ্জিন তৈরি করা বিশ্বের অন্যতম জটিল প্রযুক্তি হিসাবে বিবেচিত হয় এবং হাতেগোনা কয়েকটি দেশই এতে দক্ষতা অর্জন করেছে। এমতাবস্থায়, এই প্রযুক্তিতে ভারতের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠাকে একটি বড় সাফল্য হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আর নয় অন্যের ওপর নির্ভরতা! বুলেট ট্রেনের জন্য নিজস্ব সুপারফাস্ট সিস্টেম তৈরি করছে ভারত
প্রতিরক্ষা সচিব এটিকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন: ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা সচিব তথা DRDO-র চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং এই সাফল্যের জন্য GTRE এবং ভারতীয় শিল্পের মধ্যে অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ভারতকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্যে এই সাফল্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। তাঁর মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি শিল্পের সহযোগিতায় ভারত ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়নের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: কমবে ভারতের পদক জয়ের সংখ্যা? এবারের কমনওয়েলথ গেমসে বাদ পড়েছে ক্রিকেট ছাড়াও ৮ টি খেলা
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত আরও গতি পাবে: বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, দেশীয় টার্বোজেট ইঞ্জিনের উদ্ভাবন ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। ভবিষ্যতে এটি বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম এবং মনুষ্যবিহীন ব্যবস্থা তথা আনম্যানড সিস্টেম তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ফলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন নতুন গতি পাবে।













