বাংলাহান্ট ডেস্ক: মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশের (Bangladesh) সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সেই আবহেই ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমাল নরেন্দ্র মোদি সরকার। চলতি অর্থবর্ষে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ অর্ধেক করে ৬০ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা গত অর্থবর্ষে ছিল ১২০ কোটি টাকা। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ঢাকায় ক্রমবর্ধমান ভারতবিদ্বেষ, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনার প্রতিফলনই এই বাজেট সিদ্ধান্তে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের (Bangladesh) সঙ্গে টানাপোড়েনের আবহে বাজেটে বরাদ্দ কমালো ভারত
গত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বাংলাদেশকে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও বাস্তবে খরচ হয়েছিল মাত্র ৩৪.৪৮ কোটি টাকা। দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যত থমকে ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এ বার আগেভাগেই বরাদ্দ কমিয়ে দিল দিল্লি। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ঢাকাকে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি হলে তার আর্থিক প্রভাবও পড়বে।
আরও পড়ুন: সরষের ঝাঁঝে জিভে আসবে জল, ঝক্কি ছাড়াই বানিয়ে ফেলুন বিয়েবাড়ি স্টাইল ভেটকি পাতুরি, রইল রেসিপি
২০২৬-২৭ সালের বাজেটে বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে সামগ্রিক বরাদ্দ অবশ্য ৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫,৬৮৬ কোটি টাকা। এই খাতে ভুটানের জন্য বরাদ্দ ৬ শতাংশ বেড়েছে, নেপালের জন্য বেড়েছে ১৪ শতাংশ। শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের ক্ষেত্রেও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে মালদ্বীপের জন্য বরাদ্দ ৮ শতাংশ কমিয়ে ৫৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর প্রকাশ্য ভারতবিরোধী অবস্থান এবং চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির প্রভাব এই সিদ্ধান্তে পড়েছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
এ বারের বাজেটে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পে বরাদ্দ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রথমে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৪০০ কোটি করা হয়। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে চাবাহার বন্দরের জন্য এক টাকাও বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা ভারতের পশ্চিম এশিয়া নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: পত্রযুদ্ধের পর এবার আইনি লড়াই, কমিশনের বিরুদ্ধে মমতা গেলেন সুপ্রিম কোর্টে
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাবাহার থেকে সরে আসার নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন কূটনৈতিক চাপ। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বজায় রাখলে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতেই ভারত আপাতত চাবাহার প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ রাখার পথ বেছে নিয়েছে। সব মিলিয়ে, এ বারের বাজেট দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ভারতের কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।












