বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতির জেরে বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে একজোট হচ্ছে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলি। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতকেও (India) আমন্ত্রণ জানিয়েছে ব্রিটেন। বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের তরফে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠকে যোগ দেবেন।
ব্রিটেনে হরমুজ প্রসঙ্গে বৈঠকে ভারতকে (India) আমন্ত্রণ:
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ইরান-সহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে ভারতীয় জ্বালানিবাহী জাহাজগুলি নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করতে পারে। গত কয়েক দিনে অন্তত ছ’টি ভারতীয় জাহাজ সফলভাবে প্রণালী পার হয়েছে, যেগুলিতে এলপিজি, এলএনজি এবং অন্যান্য জরুরি পণ্য ছিল।
আরও পড়ুন: অবিলম্বে শোধ করতে হবে কোটি কোটি ডলারের বকেয়া! কাঙাল পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি চিনের
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই সরু জলপথ দিয়েই হয়ে থাকে। ভারতের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, কারণ দেশের আমদানিকৃত তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এই পথেই আসে। সাম্প্রতিক সময়ে ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর হামলার পর ইরান প্রণালী বন্ধ করে দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলিকে তেল সংগ্রহে স্বনির্ভর হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। অন্যদিকে, কিয়ার স্টার্মার জানিয়েছেন, মোট ৩৫ টি দেশ যৌথভাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। এই তালিকায় ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশও রয়েছে।

আরও পড়ুন: পাথর ভেঙে দিন গুজরান! কঠোর পরিশ্রমে হয়েছেন DSP, চমকে দেবে সন্তোষের সাফল্যের কাহিনি
ব্রিটেনের বিদেশ সচিব ইয়ভেট কুপার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হবে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, সামরিক পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা করে কীভাবে প্রণালীর নিরাপত্তা পুনঃস্থাপন করা যায়, সেই দিকেও নজর দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই বৈঠক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উঠে আসতে পারে, আর তাতে ভারতের (India) অংশগ্রহণ আরও তাৎপর্যপূর্ণ, যা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করবে।












