পাথর ভেঙে দিন গুজরান! কঠোর পরিশ্রমে হয়েছেন DSP, চমকে দেবে সন্তোষের সাফল্যের কাহিনি

Published on:

Published on:

Santosh Patel's Success Story will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প আমরা প্রায়ই শুনি, কিন্তু কিছু বাস্তব সাফল্যের কাহিনি (Success Story) সত্যিই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। তেমনই এক উদাহরণ মধ্যপ্রদেশের তরুণ সন্তোষ প্যাটেল। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে, কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি এমপিপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে পৌঁছেছেন। তাঁর এই সাফল্যের গল্প আজ অসংখ্য সংগ্রামী যুবকের কাছে প্রেরণার আলো হয়ে উঠেছে।

সন্তোষ প্যাটেলের অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলার অজয়গড় তহসিলের দেবগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সন্তোষ ছোটবেলা থেকেই কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। খেলার বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় তাঁকে। কখনও পাথর ভেঙে, কখনও জঙ্গলে গিয়ে তেন্ডু পাতা সংগ্রহ করে বিক্রি করে সংসারে সাহায্য করতেন। বর্ষাকালে চারা রোপণের কাজ করেও আয় করতেন তিনি ও তাঁর পরিবার।

আরও পড়ুন: দু’বছরেও হল না কাজ! জবাব চেয়ে কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের, কোন মামলায়?

জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করে যখন তিনি ভালো শিক্ষার খোঁজে পান্নার একটি স্কুলে ভর্তি হন। সেখানে পড়াশোনা ও শৃঙ্খলা তাঁর চিন্তাধারায় বড় পরিবর্তন আনে। দশম শ্রেণিতে ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়ে শুধু নিজের নয়, গোটা গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করেন তিনি। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি দৈনন্দিন সংগ্রাম—যেমন জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ—তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ছিল।

উচ্চমাধ্যমিকের পর সন্তোষ আইআইটি-তে ভর্তির চেষ্টা করলেও সফল হননি। এরপর তিনি ভোপালের একটি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। এই সময় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ের কাজও করেন। পরে এমটেক-এ ভর্তি হলেও, জীবনের লক্ষ্য বদলে তিনি সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি শুরু করেন।

Santosh Patel's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: যুদ্ধের আবহে বড় সিদ্ধান্ত! পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার কেন্দ্রের

এমটেক শেষ করার পর তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছিলেন—‘সিভিল সার্ভিসের চাকরি’ না পাওয়া পর্যন্ত শেভ করবেন না। আর্থিক অনটন সত্ত্বেও পড়াশোনার প্রতি তাঁর অটল বিশ্বাস ও পরিশ্রম তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়। প্রথমে ফরেস্ট গার্ড পদে নির্বাচিত হন, এরপর মাত্র দু’বারের চেষ্টায় এমপিপিএসসি পরীক্ষায় সফল হয়ে ডিএসপি হন। বর্তমানে তিনি গোয়ালিয়রে এসডিওপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, আর তাঁর জীবনসংগ্রামের সাফল্যের গল্প (Success Story) প্রমাণ করে—অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনও বাধাই শেষ কথা নয়।