চিনের ডুবন্ত অর্থনীতির শেষ ভরসা ভারত! কেন দিল্লির দিকে ঝুঁকছে ড্রাগন?

Published on:

Published on:

India is the last hope of China's sinking economy.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: চিনের অর্থনীতি বর্তমানে ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক চিনা কোম্পানি দেশীয় বৃদ্ধির ধীরগতি এবং উন্নত বাজারে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এই আবহে চিন এখন ভারতের (India) দিকে নজর দিচ্ছে। এদিকে, ভারত চিনা বিনিয়োগের বিষয়ে তার অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করতে পারে। মনে করা হচ্ছে যে, সরকার চিন সহ প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে ছোট বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অটোমেটিক এপ্রুভালের সুবিধা বিবেচনা করছে। যদি এমনটি ঘটে সেক্ষেত্রে উভয় দেশের জন্যই লাভজনক পরিস্থিতি হতে পারে।

ভারতের (India) দিকে নজর চিনা কোম্পানিগুলির:

জানিয়ে রাখি যে, বর্তমানে চিনের বাজার বর্তমানে মন্দার মধ্যে রয়েছে। চিনের অর্থনীতিবিদ ঝৌ তিয়ানয়ং-এর মতে, বাজার সংস্কার ছাড়া, আগামী বছরগুলিতে চিনের বৃদ্ধির হার ২.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তিনি আরও বলেন, সামগ্রিক উৎপাদনশীলতায় উন্নতি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি না হলে চিনের পক্ষে ৪ শতাংশ বা তার বেশি অর্থনৈতিক বৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন হবে। আর এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সেটি যে ড্রাগনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

India is the last hope of China's sinking economy.

চিনের GDP-তে কতটা প্রভাব: উল্লেখ্য যে, চিনের GDP-র বর্তমান অনুমান গত বছরের ৫ শতাংশ GDP বৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এটি ২০২০ সালের স্তর থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে মাথাপিছু GDP দ্বিগুণ করার জন্য বেইজিং যে গড় বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৪.১৭ শতাংশের অনুমান করেছে তার চেয়েও কম। গত বছরের শেষ ৩ মাসে চিনের ত্রৈমাসিক GDP বৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। যা ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর। মূলত, দুর্বল চাহিদা এবং প্রপার্টি বাজারে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলির কারণে এটি প্রভাবিত হয়।

কেন ভারতের ওপর মনোযোগ: এমতাবস্থায়, চিনা কোম্পানিগুলি ভারতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এই আগ্রহের নেপথ্যে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। মূলত, চিন তার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য ভারতের দিকে নজর রাখছে। চিনা কোম্পানিগুলি উন্নত বাজারে ধীরগতির অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।

আরও পড়ুন: AI-এর দুনিয়ায় ধামাকাদার ‘এন্ট্রি’ আদানির! করবেন ৯ লক্ষ কোটির বিনিয়োগ, সামনে এল মেগা প্ল্যান

এদিকে, ভারত একটি বৃহৎ, ক্রমবর্ধমান গ্রাহক ভিত্তি সহ ইনটেনসিভ-চালিত উৎপাদন নীতি পরিবেশ প্রদান করে। তাই, চিনের জন্য ভারতীয় বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার মধ্যে ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে অটোমোবাইল এবং মেশিনারি সামিল রয়েছে। এটি চিনের ধীরগতির অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধিকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। ভারতের বিশাল জনসংখ্যা চিনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড এবং BYD-এর মতো অটোমোবাইল কোম্পানিগুলির জন্য একটি বিশাল বাজার হিসেবেও বিবেচিত হবে।

আরও পড়ুন: ৮ উইকেট, ৩ টি মেডেন ওভার! নির্বাচকদের জবাব দিয়ে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে দাপট মহম্মদ শামির

সরকারের পরিকল্পনা: জানিয়ে রাখি যে, চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও ক্রমশ গলছে। ফলস্বরূপ, ভারত চিনা বিনিয়োগের বিষয়ে তার অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করতে পারে। সরকার প্রেস নোট ৩ পর্যালোচনা করছে এবং ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া দেশগুলি থেকে আসা ছোট বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অটোমেটিক এপ্রুভাল প্রদানের কথাও বিবেচনা করছে। ইতিমধ্যেই ইকোনমিক টাইমসের মতে, সরকার ‘ডি মিনিমিস’ সীমা নির্ধারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। জানিয়ে রাখি যে, প্রেস নোট ৩ ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে চালু করা হয়েছিল। এটি মূলত চিন থেকে বিনিয়োগ রোধ করার জন্য শুরু করা হয়।