বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত-জাপান (India-Japan) কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে তিন দিনের সফরে বুধবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি (Sanae Takaichi)। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম ভারত সফর। রাজধানীতে পৌঁছেই তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। এই সফরকে শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কর্মসূচি হিসেবেই দেখা হচ্ছে না, বরং দুই দেশের কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং শিল্প সহযোগিতার নতুন অধ্যায় বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। সফরের অন্যতম আকর্ষণ ১৬ তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সরবরাহ শৃঙ্খল, সবুজ জ্বালানি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও শক্তিশালী ভারত-জাপান (India-Japan) কূটনৈতিক সম্পর্ক:
এই সফরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচিগুলির মধ্যে রয়েছে হরিয়ানার খারখোদায় মারুতি সুজুকির নতুন গাড়ি কারখানার উদ্বোধন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যৌথভাবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন সানায়ে তাকাইচি। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অটোমোবাইল শিল্পে এটিকে অন্যতম বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের অন্যতম ভিত্তি হয়ে রয়েছে মারুতি সুজুকি। নতুন এই প্রকল্প সেই সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে এই কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
আরও পড়ুন:পড়ার মাঝপথে IIT দিল্লি ছেড়েও মাত্র ১৯ বছরেই মাইক্রোসফটে চাকরি! চমকে দেবে আশিসের কাহিনি
খারখোদার এই অত্যাধুনিক কারখানাটি প্রায় ৮০০ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে। এখানে একটি সমন্বিত সাপ্লায়ার পার্কও তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে যন্ত্রাংশ সরবরাহ থেকে শুরু করে গাড়ি উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এবং দক্ষ হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে বছরে প্রায় ১০ লক্ষ গাড়ি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থা। বর্তমানে মারুতি সুজুকির উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে গুরুগ্রাম, মানেসার এবং গুজরাটে। খারখোদার নতুন ইউনিট চালু হলে এটি হবে সংস্থার চতুর্থ উৎপাদন কেন্দ্র। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক যানবাহন তৈরির ক্ষেত্রেও এই কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মারুতি সুজুকি ভারতে উৎপাদন সম্প্রসারণের জন্য মোট প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। সংস্থার দাবি, খারখোদা প্রকল্প সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হলে ২১ হাজারেরও বেশি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী সংস্থা, পরিবহণ, লজিস্টিকস, পরিষেবা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মাধ্যমে আরও কয়েক হাজার পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু একটি নতুন কারখানা নয়, বরং হরিয়ানাকে দেশের অন্যতম বৃহৎ অটোমোবাইল উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি, পরিকাঠামো এবং শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরও পড়ুন:রাশিয়ায় জ্বালানি সঙ্কটে ‘বন্ধু’-র পাশে ভারত! পাঠানো হচ্ছে গ্যাসোলিন
অন্যদিকে, মোদি ও তাকাইচির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দিকেও নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, উচ্চপ্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মুক্ত ও উন্মুক্ত সমুদ্রপথ নিশ্চিত করার প্রশ্নেও ভারত ও জাপান দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করছে। তাই সানায়ে তাকাইচির এই সফর শুধুমাত্র একটি কূটনৈতিক সফর নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক, শিল্প ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে (India-Japan)।













