বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের জেরে এবার প্রাণ হারালেন তিন ভারতীয় নাবিক। আর প্রতিবাদে সরব হয়েছে ভারতও (India)। ওমান উপসাগরে পালাউয়ের পতাকাবাহী বাণিজ্যতরী এমটি সেট্টেবেল্লো-তে হামলার ঘটনায় এই মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে নয়াদিল্লিতে। ভারত সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির উপর ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক বাণিজ্যতরীর উপর হামলা শুধু নৌ-নিরাপত্তার জন্যই নয়, বিশ্ব বাণিজ্যের জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-আমেরিকা কূটনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।
ওমান উপসাগরে বাণিজ্যতরীতে মার্কিন হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত (India):
বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় নাবিকদের জড়িয়ে একাধিক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, ওমান উপকূলের অদূরে সংঘটিত হামলায় তিন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। ভারত (India) ইতিমধ্যেই এই ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে নিজেদের উদ্বেগ ও আপত্তির কথা স্পষ্ট করেছে। জয়সওয়াল আরও বলেন, ভারত বরাবরই সংলাপ, কূটনীতি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষপাতী। মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের সক্রিয় ভূমিকার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, বুধবার ওমান উপসাগরে এমটি সেট্টেবেল্লো নামে বাণিজ্যতরীটি হামলার মুখে পড়ে। অভিযোগ, জাহাজটির উপর একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যার ফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ওই জাহাজে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয়। হামলার পরপরই জাহাজ থেকে বিপদসংকেত পাঠানো হয় এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ২১ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিন জন নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত নাবিকদের পরিচয় ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি গত কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ঘটনা যেখানে ভারতীয় নাবিক থাকা কোনও বাণিজ্যতরী হামলার শিকার হয়েছে। এর আগে সোমবার মাদাগাস্কারের পতাকাবাহী এমটি মারিভেক্স নামের একটি জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছিল। সেই জাহাজেও ২৪ জন ভারতীয় নাবিক উপস্থিত ছিলেন। যদিও ওই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি ঘটেনি, তবে পরপর দুটি ঘটনার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে সংঘাতের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্য ব্যবস্থাও চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:গরমের দাপটে ইতি! দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি, উত্তরে ভারী বর্ষণের সতর্কতা, আগামীকালের আবহাওয়ার খবর
হামলার দায় স্বীকার করে তার কারণ দিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলি তাদের নির্দেশ অমান্য করে ইরানের বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। সেই কারণেই অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করেছে তারা। তবে ভারত (India) এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বলেই কূটনৈতিক মহলের ধারণা। বিশেষ করে নিরীহ নাবিকদের প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং বেসামরিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে ভারত আরও সক্রিয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় নাবিক ও পেশাজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।













