বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে (India) মোবাইল ফোন উৎপাদন এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা নতুন মোবাইল ফোন ম্যানুফ্যাকচারিং প্রমোশন স্কিম (MPMPS)-এ অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় ৬২,৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) জানান, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধু ভারতে মোবাইল ফোন উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং সম্পূর্ণ ম্যানুফ্যাকচারিং চেন দেশীয়করণের মাধ্যমে ভারতকে বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। প্রকল্পের আওতায় যেসব সংস্থা দেশে যন্ত্রাংশ উৎপাদন, নকশা তৈরি, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করবে, তাদের বিশেষ আর্থিক ইনসেনটিভ দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্মার্টফোন রপ্তানি বৃদ্ধির জন্যও আলাদা উৎসাহমূলক সুবিধা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
মোবাইল উৎপাদনে নয়া ইতিহাস গড়বে ভারত (India)
সরকার এই প্রকল্পের জন্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৩৯ লক্ষ কোটি টাকার মোবাইল ফোন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ লক্ষ কোটি টাকার স্মার্টফোন রপ্তানির লক্ষ্যও স্থির করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই লক্ষ্য অর্জিত হলে ভারত (India) বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে চালু হওয়া উৎপাদন-সংযুক্ত ইনসেনটিভ স্কিমের আওতায় ভারত প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকার স্মার্টফোন উৎপাদন এবং প্রায় ৭.৫ লক্ষ কোটি টাকার রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। বর্তমানে স্মার্টফোন ভারতের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়েছে এবং এই নতুন প্রকল্প সেই সাফল্যকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ১৮ দিনের অনশনে শারীরিক অবস্থার অবনতি সোনমের! হাইকোর্টে জানানো হল ‘জোর করে খাওয়ানোর’ আর্জি
অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, আগামী ২০ দিনের মধ্যেই এই প্রকল্পের বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং তারপর থেকেই সংস্থাগুলির আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকারের অনুমান, এই প্রকল্পের ফলে সরাসরি প্রায় ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পাশাপাশি যন্ত্রাংশ উৎপাদন, লজিস্টিকস, প্যাকেজিং, গবেষণা, সফটওয়্যার, পরিষেবা এবং অন্যান্য সহায়ক শিল্পেও বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কেন্দ্রের লক্ষ্য এমন একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি করা, যেখানে শুধু বিদেশি সংস্থাই নয়, ভারতীয় কোম্পানিগুলিও নিজস্ব প্রযুক্তি, নকশা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। সরকার মনে করছে, গবেষণা, উদ্ভাবন, পেটেন্ট এবং উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়লে ভারত প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার দিকেও আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
এই প্রকল্পকে দেশের ইলেকট্রনিক্স শিল্পের পরবর্তী বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডিক্সন টেকনোলজিস, ফক্সকন, টাটা ইলেকট্রনিক্স-সহ একাধিক বড় মোবাইল নির্মাতা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই পিএলআই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি অথবা নতুন ইনসেনটিভ প্রকল্প চালুর দাবি জানিয়ে আসছিল। নতুন এমপিএমএস প্রকল্প সেই দাবিরই বাস্তব রূপ বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, শুধু মোবাইল সংযোজন নয়, ভবিষ্যতে চিপ, ডিসপ্লে, ব্যাটারি, ক্যামেরা মডিউল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও দেশে উৎপাদনের সুযোগ আরও বাড়বে। এর ফলে আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং ভারত বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

আরও পড়ুন: অচেনা বৃদ্ধার চোখের জল দেখেই করেন লক্ষ্য স্থির! ৫ বার UPSC-তে সফল, উদ্বুদ্ধ করবে IAS শুভমের কাহিনি
সরকারি পরিসংখ্যানও আগের প্রকল্পের সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, পিএলআই প্রকল্পে মোট ১৯,০৯০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে সংস্থাগুলি লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩ গুণ, অর্থাৎ ২০,৫৮৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। উৎপাদনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৪২ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১১.৬১ লক্ষ কোটি টাকার স্মার্টফোন তৈরি হয়েছে। একইভাবে রপ্তানির ক্ষেত্রেও ১৩২ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৬.৪৩ লক্ষ কোটি টাকার স্মার্টফোন বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া এই শিল্প থেকে সরকার প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা প্রত্যক্ষ কর এবং প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা জিএসটি আদায় করেছে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতেই নতুন এমপিএমএস প্রকল্পকে কেন্দ্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনীতি হিসেবে দেখা হচ্ছে (India)।













