বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! বিশ্ববাজারে ফের গম রফতানি করবে ভারত, উঠল নিষেধাজ্ঞা

Published on:

Published on:

India to resume wheat exports to the global market; ban lifted.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের (India) গমের বাজার (Wheat Exports) ও মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government of India)। ডুরম গম-সহ সব ধরনের গমের রফতানির উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফের তা ‘মুক্ত’ তালিকায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে আটা, ময়দা, সুজি এবং হোলমিল আটার মতো গমজাত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রেও আগের বিধিনিষেধ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড বা DGFT-এর বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে ভারতীয় গম উৎপাদক ও রফতানিকারকদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বিদেশে রফতানি বাড়লে দেশের বাজারে গমের সরবরাহ ও দামের উপর কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেও নজর থাকবে।

বিশ্ববাজারে ফের গম রফতানি (Wheat Exports) করবে ভারত, উঠল নিষেধাজ্ঞা:

গম রফতানির (Wheat Exports) নীতি বদলের নেপথ্যে মূলত দেশে পর্যাপ্ত মজুত এবং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই কেন্দ্র ২৫ লক্ষ মেট্রিক টন গম রফতানির অনুমতি দিয়েছিল। এর পাশাপাশি আরও ৫ লক্ষ মেট্রিক টন গমজাত পণ্য বিদেশে পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন সরকারের যুক্তি ছিল, দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, বাজারে গমের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং উৎপাদনও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ফসল ওঠার সময়ে কৃষকদের যাতে অত্যন্ত কম দামে গম বিক্রি করতে না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। সীমিত রফতানির মাধ্যমে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো এবং অতিরিক্ত মজুতের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যও ছিল সরকারের।

আরও পড়ুন: পাহাড়ের কোলে বা সমুদ্র তীরে বিয়ে করতে চান? বাংলা হবে সেরা অপশন, নয়া ভাবনা সরকারের

তবে বর্তমান সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে গত কয়েক বছরের সম্পূর্ণ ভিন্ন বাজার পরিস্থিতি। ২০২২ সালের মে মাসে ভারত গমের রফতানি নীতি ‘মুক্ত’ থেকে ‘নিষিদ্ধ’ করে দেয়। সেই সময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল এবং ভারতীয় গমের চাহিদাও দ্রুত বেড়ে যায়। দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে এবং গমের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে পর্যাপ্ত জোগান বজায় রাখার লক্ষ্যেই তখন রফতানিতে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল কেন্দ্র। কয়েক মাস পরে, ২০২২ সালের আগস্টে গমের আটার রফতানির ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়।

রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও গত কয়েক বছরে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে সীমিত পরিমাণে গম ও গমজাত পণ্য বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে এবার সরাসরি ‘নিষিদ্ধ’ তালিকা থেকে সরিয়ে ‘মুক্ত’ শ্রেণিতে নিয়ে আসায় নীতিতে বড় পরিবর্তন এল। বিশেষ করে আটা, ময়দা ও সুজির মতো পণ্যগুলিকেও রফতানির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভারতীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত মজুত বজায় রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় গম ও গমজাত পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানো গেলে কৃষক, ব্যবসায়ী এবং রফতানিকারক—তিন পক্ষই উপকৃত হতে পারেন। একই সঙ্গে বৈদেশিক বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

India to resume wheat exports to the global market; ban lifted.

আরও পড়ুন:বাতিল হচ্ছে পুরোনো সমস্ত আবেদন! বার্ধক্য ভাতা নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য সরকার

কেন্দ্রের এই নীতিবদলের ফলে এখন নজর থাকবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে। রফতানি (Wheat Exports) বাড়ার কারণে যদি দেশীয় সরবরাহে কোনও চাপ তৈরি হয় বা গমের দাম ফের বাড়তে শুরু করে, সে ক্ষেত্রে সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে বর্তমান মজুত, উৎপাদন এবং বাজারের চাহিদার হিসাব করেই রফতানির দরজা খোলা হয়েছে বলে কেন্দ্রের বক্তব্য। একদিকে কৃষকদের জন্য বড় বাজার তৈরি করা, অন্যদিকে অতিরিক্ত মজুতকে কাজে লাগানো এবং গমজাত শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও এগিয়ে দেওয়া—এই তিনটি লক্ষ্যই নতুন সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রয়েছে। ফলে চার বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া গম রফতানির দরজা পুরোপুরি খুলে যাওয়াকে দেশের কৃষি ও খাদ্য বাণিজ্য নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।