বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতীয় নাগরিকত্ব (Indian Citizenship) পাওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় নাম ওঠার অভিযোগকে ঘিরে ফের আইনি জটিলতায় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)। ১৯৮০ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকার বিষয়টি নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এফআইআর বা তদন্তের আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল দিল্লির নিম্ন আদালত। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনে এবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল দ্বারকা আদালতের বিশেষ বেঞ্চ। বিচারপতি বিশাল গোগনে আগের রায়টি বাতিল করে মামলাটি নতুন করে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, আগের সিদ্ধান্তে যথাযথ কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি এবং আইনি প্রক্রিয়াতেও ত্রুটি ছিল। ফলে প্রায় এক বছর পর ফের আদালতের নজরে এল এই পুরনো বিতর্ক।
ভারতের নাগরিক হওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় নাম নিয়ে ফের আইনি বিপাকে সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)
মামলার সূত্রপাত ১৯৮০ সালের একটি ভোটার তালিকাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই তালিকায় নয়াদিল্লি লোকসভা কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) নাম ছিল। অথচ তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার তারিখ হিসেবে ৩০ এপ্রিল ১৯৮৩-কে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগের ভিত্তি হল, নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রায় তিন বছর আগেই কীভাবে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় এল। অভিযোগকারী পক্ষের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, ১৯৮২ সালে ওই তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে আবার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই ঘটনাকেই সামনে রেখে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্তের দাবি ওঠে। তবে আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশ এখনও অভিযোগগুলির সত্যতা প্রমাণ করে না; বিষয়টি নতুন করে বিচারাধীন।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোয় বাড়তি ট্রেন! দক্ষিণ-পূর্ব রেলের স্পেশাল পরিষেবা কোন রুটে, জেনে নিন
এই বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালে বিজেপির তৎকালীন আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্যও সোশ্যাল মিডিয়ায় ১৯৮০ সালের ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, সোনিয়া গান্ধীর নাম ওই সময় ভোটার তালিকায় থাকা নিয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন। মালব্যের বক্তব্য ছিল, রাজীব গান্ধীর সঙ্গে ১৯৬৮ সালে বিয়ে হলেও সোনিয়া ভারতীয় নাগরিকত্ব পান ১৯৮৩ সালে। ফলে ১৯৮০ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। সেই সময় এই দাবি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতরও তৈরি হয়। তবে রাজনৈতিক নেতাদের এই বক্তব্য এবং আদালতে বিচারাধীন অভিযোগ—দুটিকে একই বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মামলার প্রকৃত তথ্য ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার উপরই নির্ভর করছে।
এরপর সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন আইনজীবী বিকাশ ত্রিপাঠী। তাঁর হয়ে সিনিয়র আইনজীবী পবন নারাং আদালতে সওয়াল করেন এবং অভিযোগের তদন্ত করে এফআইআর দায়েরের আর্জি জানান। ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বৈভব চৌরাসিয়া সেই আবেদন খারিজ করে দেন। সেই সময় আদালতে অভিযোগকারীর তরফে বলা হয়েছিল, ভোটার হওয়ার আগে ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকা একটি মৌলিক শর্ত এবং ১৯৮০ সালের তালিকায় নাম থাকার বিষয়টি সেই প্রশ্নই তুলছে। তবে নিম্ন আদালত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা মেনে নেয়নি। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই পরে রিভিশন আবেদন করা হয়।

আরও পড়ুন: পুজোয় পোয়াবারো যাত্রীদের, আরও একগুচ্ছ স্পেশ্যাল ট্রেন চালানোর ঘোষণা দক্ষিণ পূর্ব রেলের
সেই রিভিশন আবেদনের ভিত্তিতেই এবার আগের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল দ্বারকা আদালত। বিচারপতি বিশাল গোগনে জানান, নিম্ন আদালতের আদেশে পর্যাপ্ত কারণ দেখানো হয়নি এবং পুলিশ পক্ষের বক্তব্য ও স্টেটাস রিপোর্ট চাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি। তবে বিশেষ আদালত নিজে সরাসরি এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়নি। বরং মামলাটি ফের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠিয়ে অভিযোগটি নতুন করে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশি তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নেও নতুন করে শুনানি হবে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে সেই শুনানি শুরু হওয়ার কথা। ফলে ১৯৮০ সালের ভোটার তালিকায় সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া ফের সক্রিয় হল, যদিও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।














