বাংলাহান্ট ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের (Indian Railways) খড়গপুর শাখায় যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ শোনা যায়। আসে প্রতিদিনই ট্রেন দেরি, অতিরিক্ত ভিড় এবং পরিষেবার অনিয়ম থেকে শুরু করে এরকম নানা বিষয়ে অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগেই বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় রেলের দক্ষিণ পূর্ব শাখার আওতায় সাঁতরাগাছি থেকে খড়গপুর পর্যন্ত একটি নতুন চতুর্থ রেললাইন গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার তরফ থেকে এই প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই রুটে তিনটি লাইন থাকলেও বাড়তি চাপ সামাল দিতে চতুর্থ লাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় রেলের (Indian Railways) নতুন প্রকল্পের ঘোষণা
রেলমন্ত্রীর জানান, এই নতুন লাইন তৈরি হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে কলকাতা থেকে মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি এই রুটে প্রচুর সাব-আরবান বা লোকাল ট্রেনও চলে। নতুন লাইন তৈরি হলে সেই ট্রেনগুলির জন্য অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি তৈরি হবে, ফলে আশা করা হচ্ছে লোকাল পরিষেবা আরও নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে ।
আরও পড়ুন: ইতিহাসে প্রথম! যুবকের ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট, বিস্তারিত জানুন…
বর্তমানে সাঁতরাগাছি থেকে খড়গপুর পর্যন্ত রেলপথে ট্রেনের চাপ অত্যন্ত বেশি। এই লাইন দিয়েই শুধুমাত্র লোকাল ট্রেনই নয়, দূরপাল্লার একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেনও চলাচল করে। তাছাড়াও এই রুট উত্তর-পূর্ব ভারতকে পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করিডর। একই সঙ্গে এই লাইনে প্রচুর পণ্যবাহী বা ফ্রেট ট্রেনও চলে। আর সেখানেই যাত্রীদের অভিযোগ, এই অতিরিক্ত চাপের কারণে লোকাল ট্রেন দেরিতে পৌঁছানো প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রেলমন্ত্রীর দাবি, এখানে চতুর্থ লাইন তৈরি হয়ে গেলে ট্রেন চলাচলের গতিও যেমন বাড়বে তেমন একই সঙ্গে ট্রাফিকও ভাগ হয়ে যাবে। এর ফলে ট্রেন লেট হওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও বড় সুবিধা হবে। বিশেষ করে হলদিয়া বন্দর থেকে কলকাতা বন্দরের মধ্যে পণ্য পরিবহণও আরও দ্রুত ও সহজ হয়ে উঠবে, যা শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও দারুণ একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন:কোন পরিস্থিতিতে বুথে পুনর্নির্বাচন হবে? খোলসা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
সূত্রের খবর, ১১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই চতুর্থ লাইন নির্মাণে মোট বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। জানা গিয়েছে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করতে সময় লাগবে প্রায় ৫ বছর। হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার উপর দিয়ে এই রেললাইন যাবে বলে জানা যাচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এতে একটি বড় সেতু, ১৫টি মাঝারি সেতু এবং প্রায় ১০০টি ছোট সেতু তৈরি করা হবে। পাশাপাশি আন্দুল, সাঁকরাইল, ধুলোগড়ি ও বালির মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল, শালিমার ও সাঁকরাইলের গুডস শেড এবং কোলাঘাটের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলির জন্যও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।












