বাংলাহান্ট ডেস্ক: চলতি আর্থিক বছরে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (Indian Railways) পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি গ্রহণ, আধুনিক বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন এবং পরিচালনগত সুরক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই সাফল্য পরিবেশবান্ধব, দক্ষ ও সুরক্ষিত রেল পরিচালনার লক্ষ্যে রেলওয়ের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারকেই তুলে ধরছে। গ্রিন এনার্জি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণে জোর দিয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ক্রমশ একটি টেকসই রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পথে এগিয়ে চলেছে।
সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে খরচ কমাল রেল (Indian Railways)
পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে বড় সাফল্য এসেছে রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনে। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়েতে মোট ৯.২৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার প্ল্যান্ট চালু হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৭৩ শতাংশ বেশি। ২০১১-১২ সালের পর থেকে এক অর্থবছরে এটিই সর্বোচ্চ সোলার ক্যাপাসিটি সংযোজন। এর ফলে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত এই রেলওয়ের অধীনে মোট সোলার পাওয়ার ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮.৪ মেগাওয়াটে, যা শক্তি সাশ্রয় ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা! কেঁপে উঠল রাজধানী ইসলামাবাদ, মৃত অন্তত ৩১
বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নিউ জলপাইগুড়ি ও ডিব্রুগড়ে নতুন ট্রিপ ইন্সপেকশন শেড চালু করা হয়েছে। যথাক্রমে ২০ আগস্ট ও ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে এই শেডগুলি কার্যকর হয়। এর ফলে বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভের নিয়মিত পরিদর্শন সহজ হয়েছে এবং ট্রেন চলাচলের নির্ভরযোগ্যতা বেড়েছে। একই সঙ্গে ট্রেন সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের ২৮৫টি বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভের মধ্যে ৮১টিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন সিস্টেম ‘কবচ’ বসানো হয়েছে।
পরিচালনগত দক্ষতা বাড়াতে ডিজেল থেকে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশনে রূপান্তরের কাজও জোরদার হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩১ জোড়া ট্রেনকে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনে আনা হয়েছে, যার ফলে ২৬টি ডিজেল লোকোমোটিভ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। এতে জ্বালানি নির্ভরতা কমার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং রেল পরিচালন আরও স্থায়ী হয়েছে।

আরও পড়ুন: এখনও সম্পূর্ণ হয়নি উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগ, ভোটের আগে ঝুলে ১২৪১ জনের ভবিষ্যৎ
প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা সচেতনতার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। নিউ বঙ্গাইগাঁও লবিতে অটোমেটিক ব্লক সিস্টেমের একটি কার্যকরী মডেল স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ট্রেন কর্মীদের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। পাশাপাশি কাটিহার, আলিপুরদুয়ার, রঙিয়া ও তিনসুকিয়া ডিভিশনে রাতের বেলায় বিভাগীয় ভিডিওগ্রাফি চালু হয়েছে, যা রানিং স্টাফদের রুট লার্নিং ও পরিস্থিতিগত সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে। এই সামগ্রিক উদ্যোগ উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়েকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলছে।












