বাংলা হান্ট ডেস্ক: আমাদের দেশে গণপরিবহণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয় রেলপথ (Indian Railways)। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনে চেপেই নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছে যান। দূরের হোক কিংবা কাছের প্রতিটি সফরের ক্ষেত্রেই রেলপথের জুড়ি মেলা ভার। এমতাবস্থায়, ক্রমবর্ধমান যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে এবং তাঁদের সুষ্ঠুভাবে পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে একের পর এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভারতীয় রেল। এই আবহেই এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, ভারতীয় রেল এবার যাত্রীদের স্বস্তি প্রদানের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখনও পর্যন্ত, ট্রেনে ফার্স্ট ক্লাস এবং AC কোচগুলিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি সর্বদা সতর্কতার সঙ্গে দেখা হত। এদিকে, জেনারেল বগিগুলির ক্ষেত্রে অত্যধিক নোংরা এবং দুর্গন্ধের অভিযোগ সামনে আসত। কিন্তু, এবার এই চিত্র বদলাতে চলেছে। ইতিমধ্যেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে কোনও বৈষম্য করা হবে না। ‘সংস্কার পরিকল্পনা ২০২৬’-এর আওতায় রেল প্রস্তুতি নিচ্ছে। যার সরাসরি লাভবান হবেন যাত্রীরা।
বড় পদক্ষেপ রেলের (Indian Railways):
জেনারেল কোচের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ জোর: জানিয়ে রাখি যে, ইতিমধ্যেই রেল একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করেছে। যার মাধ্যমে আগামী এক বছর বা ৫২ সপ্তাহে ৫২ টি বড় সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। এই অভিযানটি ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা’ দিয়ে শুরু হচ্ছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের মতে, ট্রেনের প্রতিটি কোচ এখন সফর চলাকালীন পরিষ্কার করা হবে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই পরিষ্কার অভিযানে জেনারেল কোচগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রায়শই দেখা যায় যে, জেনারেল কোচগুলি ট্রেনের বাকি অংশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন থাকে (Vestubule থাকে না)। যার ফলে ট্রেন চলার সময় সাফাই কর্মীদের তওই কোচে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যাটিও সমাধান করা হয়েছে। এখন, স্টেশনগুলিতে থামার সময়, সাফাই কর্মীরা নেমে জেনারেল কোচে যাবেন এবং টয়লেট থেকে শুরু করে ডাস্টবিন এবং কোচের সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করবেন। এর জন্য, প্রাথমিকভাবে প্রতিটি জোনে ৪-৫ টি ট্রেন নির্বাচন করা হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে এই পদক্ষেপ ৮০টি ট্রেনের গ্রুপে বাস্তবায়িত করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: ফের বাজিমাত মুকেশ আম্বানির! আমেরিকার কাছ থেকে পেলেন বড় ‘লাইসেন্স’, লাভবান হবে গোটা দেশ
প্রতি মুহূর্তে নজর রাখবে AI: উল্লেখ্য যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থাকে হাই-টেক করে তোলার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা AI ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন পরিষ্কারের পর, কোচের ছবি সরাসরি একটি কন্ট্রোল রুমে পাঠানো হবে। যেখানে একটি AI বেসড সিস্টেম পরীক্ষা করবে যে, পরিষ্কারের মান অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে কিনা।
এদিকে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনও ত্রুটি পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট ভেন্ডার বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেল স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে, কেবলমাত্র সর্বোচ্চ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মান সম্পন্নদেরই চুক্তি দেওয়া হবে। ভিড় সামলাতে ব্যস্ত সময়ে আরও কর্মী মোতায়েন করা হবে এবং রুট অনুসারে দলগুলি কাজ করবে। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে এটা স্পষ্ট করা হবে যে, কোনও যাত্রী কোচের শ্রেণি নির্বিশেষে যেন কোনও অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির সম্মুখীন না হন।












