‘হাঁ’ করে তাকিয়ে দেখবে চিন! মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তই ভারতকে করে তুলবে মহাশক্তিশালী

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ২০২৬ সালের বাজেটে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন একটি বড় ঘোষণা করেছেন। যা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি এবং বিশ্ব রাজনীতি উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। এই ঘোষণাটি ‘রেয়ার আর্থ করিডোর’ (Rare Earth Minerals) নির্মাণের সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাপ্লাই চেনকে শক্তিশালী করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই পদক্ষেপ চিনের মতো দেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং ভারতকে (India) একটি বিশ্বব্যাপী উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দিকেও মাইলফলক হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি অর্থনৈতিক নীতি নয়, বরং ‘সুপারপাওয়ার’ হওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

রেয়ার আর্থ মিনারেলসের (Rare Earth Minerals) ক্ষেত্রে চিনের আধিপত্যের অবসান ঘটবে:

উল্লেখ্য যে, বর্তমানে সমগ্র বিশ্ব জানে যে চিনের কাগজেই সাম্প্রতিক হাইটেক ইন্ডাস্ট্রির চাবিকাঠি রয়েছে। কারণ, তারা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টসের বৃহত্তম সরবরাহকারী। কিছু সময় আগে, যখন চিন তার সরবরাহ সীমিত করেছিল, সেই সময়ে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই ঝুঁকির আশঙ্কা করে, ভারত সরকার এখন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। অর্থমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেছেন যে, নতুন প্রযুক্তি উৎপাদন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে রূপান্তরিত করছে। এমতাবস্থায়, জল জ্বালানি এবং ক্রিটিকাল মিনারেলসের চাহিদা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই, আমদানির ওপর নির্ভর না করে, ভারত এখন ক্লিন মবিলিটি এবং ব্যাটারি উৎপাদনের মতো খাতগুলিকে ত্বরান্বিত করার জন্য নিজস্ব সাপ্লাই চেন তৈরি করবে।

India's big step in Rare Earth Minerals.

দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যগুলিতে করিডোরটি তৈরি করা হবে: এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের নীলনকশা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে, ‘রেয়ার আর্থ করিডোর’ ওড়িশা, কেরালা, অন্ধ্র প্রদেশ এবং তামিলনাড়ুতে তৈরি করা হবে। এই রাজ্যগুলিকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে কারণ হল তাদের খনিজ সম্পদ। এই করিডোরের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল, দেশের অভ্যন্তরে রেয়ার আর্থ মিনারেলসের খনন, প্রক্রিয়াকরণ এবং পরিবতৃণের জন্য একটি স্পেশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা। যখন এই খনিজ সমৃদ্ধ রাজ্যগুলি সংযুক্ত হবে, তখন কেবল উৎপাদন ক্ষমতাই বৃদ্ধি পাবে না, বরং সাপ্লাই চেনের ব্যাঘাতও দূর করবে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে।

আরও পড়ুন: সোনার থেকেও দাম বেশি! কৃষকদের ভাগ্য বদলাতে এই গাছের জন্য বাজেটে হল বড় ঘোষণা

রেয়ার আর্থ মিনারেলস: জানিয়ে রাখি যে, রেয়ার আর্থ মিনারেলস হল খনিজ পদার্থের একটি বিশেষ গ্রুপ যাকে আধুনিক প্রযুক্তির ‘মেরুদণ্ড’ বলা হয়। আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন থেকে শুরু করে আকাশে উড়ন্ত যুদ্ধবিমান পর্যন্ত সবকিছুই এর ওপর নির্ভর করে। এছাড়াও, সিকিউরিটি ডিভাইস, বৈদ্যুতিক যানবাহন, বউইন্ড টারবাইন, রিনুয়েবল এনার্জি, এবং অ্যারোস্পেস শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় রেয়ার আর্থ মিনারেলস। এই কারণেই একে বর্তমানের ‘নতুন সোনা’ বলা হয়।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ICC! PCB-র বিরুদ্ধে নেওয়া হবে এই ৫ টি অ্যাকশন?

বড় পদক্ষেপ সরকারের: ইতিমধ্যেই বাজেটে, সরকার এই খাতকে চাঙ্গা করার জন্য তার কোষাগার খুলে দিয়েছে। উচ্চমানের স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে ব্যবহৃত মোনাজাইটের ওপর থেকে মৌলিক শুল্ক অপসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। রেয়ার আর্থ মিনারেলসের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতেও শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে। যা এখনও পর্যন্ত ২.৫ শতাংশ ছিল। এদিকে, এক্ষেত্রে উত্তোলন একটি জটিল প্রক্রিয়া। জিওলজিক্যাল সার্ভের মাধ্যমে প্রথমে এই খনিজগুলি শনাক্ত করা হয়। উত্তোলনের পরে, পাথরগুলিকে ভেঙে গুঁড়ো করা হয়। এরপর বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাদামাটি আলাদা করা হয় এবং খনিজ পদার্থগুলিকে বিশেষ রাসায়নিক দ্রবণে দ্রবীভূত করা হয়। পরিশোধনের পরেই এই উপাদানগুলি উচ্চ বিশুদ্ধতায় পৌঁছয়। যা এগুলিকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলে।