বাংলা হান্ট ডেস্ক: আর বেশি অপেক্ষা নয়! ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেনের (Bullet Train) স্বপ্ন শীঘ্রই বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। মুম্বাই ও আহমেদাবাদের মধ্যে ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হাই-স্পিড রেল করিডোরের (Mumbai–Ahmedabad High-Speed Rail Corridor) কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ঠিক এই আবহেই এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ভারতের (India) বুলেট ট্রেন প্রকল্পের খরচ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনামূলক অনুমানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। প্রাথমিকভাবে। এই প্রকল্পে বিলম্ব সত্ত্বেও, দেশীয় প্রযুক্তি এই বিশাল প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এটিকে সমগ্র দেশের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জাপান ও ইন্দোনেশিয়ার চেয়েও সস্তা ভারতের বুলেট ট্রেন (Bullet Train)!
জাপানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম খরচ: জানিয়ে রাখি যে, কিলোমিটার প্রতি খরচের দিক থেকে ভারত একাধিক উন্নত দেশের তুলনায় ভালো জায়গায় রয়েছে। একজন উচ্চ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড ট্রেন প্রকল্পের প্রতি কিলোমিটারে খরচ হবে প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, জাপানের হোকুরিকু শিনকানসেনের প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয় ১,১৫০ কোটি টাকারও বেশি। এছাড়াও, ইন্দোনেশিয়ার উশি বুলেট ট্রেনের প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয় প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকা। এই পরিসংখ্যান থেকে এটা স্পষ্ট যে, ভারতের প্রকল্পটি বিশ্বব্যাপী মানদণ্ডের চেয়ে অনেক সস্তা।

স্থানীয় সরবরাহকারীরা একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা প্রদান করেছে: উল্লেখ্য যে, বুলেট ট্রেন প্রকল্পে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। আধিকারিকরা বলেছেন যে, ট্রেনসেট থেকে শুরু করে সিগন্যালিং ব্যবস্থা পর্যন্ত সবকিছুর জন্য দেশীয় সংস্থাগুলিকে নির্বাচন করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। তবে, জমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে প্রকল্পটি দেরি হয়। তা সত্ত্বেও, স্থানীয় সরবরাহকারী তথা লোকাল সাপ্লায়ারসের কারণে প্রচুর অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। যা প্রকল্পটিকে গতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: অলিম্পিকে কেন পিছিয়ে থাকে ভারত? প্রধানমন্ত্রী মোদী জানালেন ‘কঠোর সত্য’, দিলেন বিশেষ পরামর্শও
ফান্ডিংয়ের জন্য কোনও নতুন ঋণের প্রয়োজন নেই: জানিয়ে রাখি যে, ২০১৬ সালে, এই প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় আনুমানিক ১.০৮ লক্ষ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। তবে, প্রকল্পটি শেষ হতে হতে মোট ব্যয় প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছবে বলে এখন অনুমান করা হচ্ছে। ওই আধিকারিকের মতে, প্রকল্পের এই বর্ধিত ব্যয় অভ্যন্তরীণ ফান্ড থেকে মেটানো হবে। এর জন্য কোনও বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে অতিরিক্ত ঋণের প্রয়োজন হবে না। উল্লেখ্য যে, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি তথা JICA ২০১৭ সাল থেকে এই প্রকল্পে ৫৯,৩৯৬ কোটি টাকার সফট লোন দিয়েছে।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ভারত! টিম ইন্ডিয়ায় সুযোগ পেলেন সেহবাগ ও দ্রাবিড় পুত্র
আগামী বছর শুরু হবে বুলেট ট্রেনের সফর: সুরাট ও ভাপির মধ্যে ৯৭ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশের নির্মাণ কাজ এই বছরই শেষ হবে। গত মাসেই ভারত, জাপানের সহযোগিতায়, এই করিডোরে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি বুলেট ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী সামঞ্জস্যপূর্ণ সিগন্যালিং ব্যবস্থাও থাকবে। মূলত, জাপানি সরবরাহকারীরা ২০২৭ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারে এমন প্রস্তাব জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশ এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেয়। এখন, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারতে তৈরি বুলেট ট্রেনটির পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। রেল মন্ত্রক ২০২৭ সালের অগাস্ট মাসের মধ্যেই দেশের প্রথম বুলেট ট্রেনে জনসাধারণকে সফরের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।













