ডবল ঝটকার সম্মুখীন Infosys! হল ২ লক্ষ কোটির লোকসান, ছিটকে গেল শীর্ষ ১০-এর তালিকা থেকেও

Published on:

Published on:

Infosys market cap falls by Rs 2 lakh crore.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতের অন্যতম বৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ইনফোসিস (Infosys) সাম্প্রতিক মাসগুলিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থার এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছে। একসময় শেয়ার বাজারের ‘ব্লু-চিপ’ হিসেবে পরিচিত এই সংস্থাটি এখন ভারতের শীর্ষ ১০ টি ভ্যালুয়েবল কোম্পানির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। মূলত, মার্কেট ক্যাপে তীব্র পতন, দুর্বল গ্রোথ গাইডেন্স এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমতাবস্থায়, স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে এই পতন কী কেবল সাময়িক, নাকি তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে ইতিমধ্যেই একটি বড় ধরণের স্ট্রাকচারাল পরিবর্তন শুরু হয়ে গেছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কোম্পানিটি জোড়া ধাক্কা খেয়েছে। প্রথমত, কোম্পানিটির প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে এবং দ্বিতীয়ত, এটি দেশের ভ্যালুয়েবল কোম্পানির শীর্ষ ১০-এর তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

ডবল ঝটকার সম্মুখীন Infosys:

মূলত, ভারতের অন্যতম প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ইনফোসিস চলতি বছরে শেয়ার বাজারে উল্লেখযোগ্য চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই সংস্থার মার্কেট ক্যাপ প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা কমে যাওয়ায় এটি দেশের শীর্ষ ১০ টি ভ্যালুয়েবল কোম্পানির তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছে। বর্তমানে এর বাজার মূলধন প্রায় ৪.৬৮ লক্ষ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক এই পতনের প্রধান কারণ ছিল সংস্থাটির দুর্বল ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা। মার্চ ত্রৈমাসিকে কোম্পানিটি ৪৬,৪০২ কোটি টাকার রেভিনিউ এবং ৮,৫০১ কোটি টাকার মুনাফা অর্জন করেছে। যা প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ছিল। তা সত্ত্বেও, ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য কোম্পানিটি মাত্র ১.৫ শতাংশ থেকে ৩.৫ শতাংশ গ্রোথের গাইডেন্স দিয়েছিল। যা বিনিয়োগকারীদের অবাক করে।

Infosys market cap falls by Rs 2 lakh crore.

কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে: এদিকে, এই কোম্পানির বর্তমান শেয়ারের দর BSE-তে ১,১৬৯.৯৫  টাকা। গত এক সপ্তাহে এই শেয়ারে ১১.৩৯ শতাংশের পতন ঘটে এবং গত ১ বছরে এই শেয়ারে ২০.৯০ শতাংশের পতন ঘটেছে। জানিয়ে রাখি যে, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া তথা LIC শীর্ষ ভ্যালুয়েবল কোম্পানির প্রথম ১০-এ জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসও র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়েছে, যা সামগ্রিক আইটি সেক্টরের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমস্যাটি কেবল সাইক্লিক্যাল নয়, বরং স্ট্রাকচারাল। কোম্পানিগুলি এখন ব্যয় হ্রাস থেকে শুরু করে খরচ কমানো এবং ভেন্ডার কনসোলিডেশনের ওপর মনোযোগ দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: ১ মে থেকে বদলাবে LPG সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়ম? গ্যাস ডেলিভারি সিস্টেমেও পরিবর্তন? মিলল আপডেট

এই প্রেক্ষাপটে, আইটি কোম্পানিগুলি প্রচলিত বড় আকারের চুক্তির মাধ্যমে আয়ের সম্ভাবনায় মন্দার সম্মুখীন হচ্ছে। তবে, ইনফোসিস AI এবং অটোমেশনে বিনিয়োগ করছে। কোম্পানিটি টোপাজের মতো প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে এবং হাজার হাজার ডেভেলপার এআই টুল ব্যবহার করছেন। এটি নিঃসন্দেহে ডেটা, ক্লাউড এবং অটোমেশনে নতুন সুযোগ তৈরি করছে, কিন্তু এর আরেকটি দিকও রয়েছে।

আরও পড়ুন: আসবে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ! ভারত-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সম্পন্ন হল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

উল্লেখ্য যে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রোডাক্টিভিটি বাড়াচ্ছে। যার ফলে গ্রাহকরা খরচ হ্রাসের মাধ্যমে লাভবান হচ্ছেন। এটি কোম্পানির প্রচলিত ব্যবসার ওপর প্রাইস প্রেশার বাড়াচ্ছে এবং রেভিনিউ গ্রোথ সীমিত করছে। চাহিদার পরিস্থিতিও অসম রয়ে গেছে। ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং এনার্জি সেক্টরে স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও ম্যানুফ্যাকচারিং, রিটেল এবং টেলিকম সেক্টর এখনও চাপের মধ্যে রয়েছে।