কাজ বন্ধ হওয়ার ইমেলকে ‘গুজব’ বলল তৃণমূল, তবে এখনও নীরব IPAC, বাড়ছে জল্পনা

Published on:

Published on:

IPAC Row TMC Denies Work Halt Claim Amid Leave Mail Controversy
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটমুখী বঙ্গে আই-প্যাক (IPAC) নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে সংস্থার কর্মীদের ২০ দিনের ছুটিতে পাঠানোর ইমেল সামনে এসেছে, অন্যদিকে তৃণমূল বলছে এই খবর পুরোপুরি ভিত্তিহীন। ঠিক কী ঘটেছে, কেন এই বিভ্রান্তি, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা চলছে, কারণ এই বিষয়ে এখনও কোনও অফিশিয়ালি বিবৃতি জারি করেনি আইপ্যাক।

ভোটের মুখে আই-প্যাক (IPAC) বিতর্ক

রবিবার সকালে হঠাৎ করে খবর ছড়ায় পশ্চিমবঙ্গে আই-প্যাক (IPAC) তাদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এই খবর ছড়াতেই তড়িঘড়ি বিবৃতি দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, এই ধরনের খবর ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তি তৈরি করতে। তৃণমূল স্পষ্ট জানিয়েছে, আই-প্যাক এখনও তাদের সঙ্গেই কাজ করছে এবং রাজ্যজুড়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রচার চলছে। তৃণমূলের জানিয়েছে, “যে দাবি করা হচ্ছে, আই-প্যাক ২০ দিনের জন্য কাজ বন্ধ রেখেছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।” একই সঙ্গে দল জানায়, ভোটের ময়দান থেকে মনোযোগ সরানোর জন্যই এই ধরনের প্রচার করা হচ্ছে।

বিতর্ক শুরু হয় আই-প্যাকের (IPAC) তরফে কর্মীদের একটি ইমেল থেকে। সেই ইমেলে বলা ছিল আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে পশ্চিমবঙ্গে কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। কর্মীদের ২০ দিনের ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে এবং ১১ মে-র পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার থেকেই সংস্থার বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে ভোটের এত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যদি সত্যিই আই-প্যাক (IPAC) কাজ বন্ধ রাখে, তাহলে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও দলের একাংশের দাবি, সংস্থার কিছু কর্মী বাড়ি থেকে বা অন্য উপায়ে কাজ চালিয়ে যাবেন।

ঘটনার সূত্রপাত

এই বিতর্কের মাঝেই সামনে এসেছে ইডি-র তল্লাশি এবং গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গ, অর্থাৎ ঘটনার সূত্রপাত। আইপ্যাক নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় আই-প্যাকের দপ্তর ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো নিয়ে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি ছিল, দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই মামলা এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

এরই মধ্যে আই-প্যাকের (IPAC) অন্যতম পরিচালক বিনেশ চান্দেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা নিয়ে তৃণমূলের তরফে প্রতিবাদ জানানো হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এটিকে ‘ভীতি প্রদর্শন’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

IPAC Halts Bengal Operations Before Polls TMC Faces Strategic Setback

আরও পড়ুনঃ ভোটের মুখে নন্দীগ্রামে বোমা বিস্ফোরণ! তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকেই মিলল তাজা বোমা

ভোটের আবহে আই-প্যাক (IPAC) নিয়ে এই টানাপোড়েন নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। একদিকে সংস্থার ইমেল, অন্যদিকে তৃণমূলের অস্বীকার, এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।