বাংলাহান্ট ডেস্ক: হরমুজ প্রণালী নিয়ে অস্বস্তির মাঝেই ভারতের (India) জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল ইরান। হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না করে ‘বন্ধু’ দেশগুলির জন্য তা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। বুধবার গভীর রাতে এই নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ইরান। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয় যে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই অথবা বন্ধত্বের সম্পর্ক বজায় রেখেছে তাঁদের সঙ্গে সেই দেশগুলির জাহাজকে নিরাপদে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বাণিজ্যের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে। বিবৃতিতে ভারত এবং পাকিস্তান সমেত এরকম পাঁচটি দেশের নাম ওই তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
‘বন্ধু’ ভারতের (India) জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান:
এর আগেও ইরান জানিয়েছিল, তারা বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখবে, কিন্তু সেই তালিকায় কোন কোন দেশ রয়েছে তা পরিষ্কার করেনি। বুধবার দুপুরে পাকিস্তানগামী একটি জাহাজ বাধার মুখে পড়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই জল্পনা আরও বাড়ে। এই আবহে রাতেই এই ছাড়পত্রের তালিকা প্রকাশ করে ইরান। প্রসঙ্গত, বর্তমানে আমেরিকা-ইরান সংঘাত প্রশমনে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে পাকিস্তান, যা এই ঘোষণাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: মার্চের শেষে বড় পতন সোনার দামে! জানুন আজকের লেটেস্ট রেট
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘজি জানিয়েছেন, বন্ধুদেশগুলিকে হরমুজ় প্রণালী ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, চিন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক এবং পাকিস্তান, এই পাঁচ দেশকে তেহরান ‘বন্ধু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মুম্বইয়ে ইরানের উপদূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্টও করেছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, “হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ নয়। যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে, তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাঘচি আরও জানিয়েছেন যে বিভিন্ন দেশ নিরাপদে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ইতিমধ্যেই এই পথ দিয়ে কয়েকটি জাহাজ পারাপার করেছে এবং ভবিষ্যতেও আরও জাহাজ চলাচল করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এমনকি বাংলাদেশের জাহাজও ভবিষ্যতে এই পথে চলাচল করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: মার্চে সত্যিই ঢুকছে বকেয়া DA? রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড় আপডেট
তবে এই ছাড়পত্র নিঃশর্ত নয় তাও জানিয়ে দেওয়া হয় ইৎানের তরফে। রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরান আগেই জানিয়েছিল, যে সব জাহাজকে তারা ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করবে না, শুধুমাত্র তারাই হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগাম সমন্বয় রাখা বাধ্যতামূলক এবং ওই জাহাজগুলিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক কার্যকলাপে জড়িত থাকা চলবে না। ইরানের ঘোষিত নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার শর্তও দেওয়া হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে খোলা থাকলেও, তা কঠোর নজরদারির মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে বলে স্পষ্ট।












