বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইসলামাবাদের মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় জড়িত আসিম মুনির (Asim Munir)? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও ঘিরে হইচই। শুক্রবার জুম্মার নমাজ চলাকালীন ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে তছনছ হয়ে যায় প্রার্থনাস্থল। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই হামলায় অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা প্রায় ১৭০। ইসলামাবাদের তরলাই এলাকায় অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বহু দূর পর্যন্ত শব্দ শোনা যায় এবং মসজিদের ভেতরে থাকা মানুষজনের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে।
ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে হাত রয়েছে মুনিরের (Asim Munir)?
পাক সংবাদমাধ্যমের দাবি, মসজিদের ফটকে নিরাপত্তারক্ষীরা এক আত্মঘাতী জঙ্গিকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। ঠিক সেই সময়েই জঙ্গি নিজেকে উড়িয়ে দেয়, যার জেরে প্রার্থনারত বহু মানুষ হতাহত হন। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, এই হামলার নেপথ্যে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) থাকতে পারে। অতীতেও শিয়া মুসলিমদের ধর্মীয় স্থানে হামলার ঘটনায় টিটিপির নাম উঠে এসেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ২৫ বছর পর মুম্বাইয়ের মেয়র পদ হাতছাড়া শিবসেনার! দায়িত্ব নিলেন বিজেপির রীতু তাউরে
এই ঘটনার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ওই ভিডিওতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর আদিল রজা বিস্ফোরণের নেপথ্যে আরও বড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হয়নি। তবে আদিল রজার দাবি, পাক সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ‘ভুয়ো অভিযান’ মঞ্চস্থ করতে পারেন, যাতে দেশের ভিতরে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং দোষ চাপানো যায় ভারত বা আফগানিস্তানের উপর। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে।
আদিল রজা আরও দাবি করেন, এমন অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হলে পাকিস্তানকে আমেরিকার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ অংশ নিতে বা গাজ়ায় সেনা পাঠাতে হবে না। তিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন যে দেশে বড় কোনও ঘটনা ঘটতে পারে এবং তার দায় বাইরের শক্তির উপর চাপানো হতে পারে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিগত দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে এবং সরকারি ভাবে এর কোনও সমর্থন মেলেনি।

আরও পড়ুন: চা-ফল থেকে স্মার্টফোন! আমেরিকায় রফতানিতে ভারতের কোন কোন পণ্যে লাগবে না শুল্ক?
এদিকে বিস্ফোরণের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ ফের আফগানিস্তান ও ভারতের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, হামলায় জড়িত জঙ্গির আফগানিস্তানে যাতায়াত ছিল এবং এটি ভারতের সঙ্গে যৌথ ষড়যন্ত্রের ফল। ভারত এই অভিযোগ কড়া ভাষায় খারিজ করেছে। নয়াদিল্লির বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই পাকিস্তান বারবার অন্য দেশের উপর দোষ চাপাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।












