পাকিস্তানের কারণেই ‘বিষাক্ত’ হয়ে উঠছে দিল্লির বাতাস! নাসার রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Published on:

Published on:

Pakistan one of the main reasons behind the air pollution in Delhi?

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দীপাবলির আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। তার আগেই ফের দূষণের (Air Pollution) চাদরে ঢাকতে শুরু করেছে রাজধানী দিল্লি (Delhi)। কয়েক দিনের ব্যবধানেই হু হু করে নেমেছে বাতাসের গুণমান। মাত্র চার দিনের মধ্যে দিল্লির বায়ুর গুণমান সূচক বা AQI ১২৪ থেকে বেড়ে ৪০০-র গণ্ডি ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে দিল্লি ও সংলগ্ন জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে। এরই মধ্যে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ‘ফার্মস’ স্যাটেলাইটের তথ্য সামনে আসায় দূষণের কারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওই তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে পাকিস্তানের (Pakistan) পাঞ্জাব প্রদেশে ব্যাপক হারে খড় পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতির অভাবে সেই ধোঁয়ার একটি অংশ উত্তর-পশ্চিম দিকের বাতাসের সঙ্গে হরিয়ানা হয়ে দিল্লি-এনসিআরে পৌঁছতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদদের একাংশ। ফলে রাজধানীর দূষণ পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

দিল্লির দূষণের (Air  Pollution) নেপথ্যে অন্যতম প্রধান কারণ পাকিস্তান?

গত ৩০ অক্টোবর বৃষ্টির জেরে দিল্লির বাতাসের মানে সাময়িক উন্নতি হয়েছিল। সেদিন রাজধানীর AQI নেমে দাঁড়ায় ৬০-তে, যা গত আট বছরের মধ্যে ওই দিনের অন্যতম পরিষ্কার বাতাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরবর্তী চার দিনে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। মঙ্গলবার দিল্লির গড় AQI পৌঁছে যায় ৩৩০-এ। রাজধানীর অন্তত তিনটি এলাকায় সূচক ৪০০ ছাড়িয়ে যায়। শুধু দিল্লি নয়, সংলগ্ন গাজিয়াবাদের পরিস্থিতিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বুধবার সকালে সেখানে AQI ৫১৬-তে পৌঁছয় বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। বাতাসের এই অবনতির জেরে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান বা GRAP-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। দূষণের (Air Pollution) মাত্রা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ভারতের প্রশংসা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার! কী জানালেন মহাসচিব?

নাসার ‘ফার্মস’ স্যাটেলাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে মোট ১৩ হাজার ২৪১টি খড় পোড়ানোর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের পাঞ্জাবে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ১৫৮। অর্থাৎ, ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী পাকিস্তানের পাঞ্জাবে খড় পোড়ানোর ঘটনা ভারতের পাঞ্জাবের তুলনায় প্রায় ৪.২ গুণ বেশি। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে লাহোরের আশপাশের এলাকায়। এর প্রভাব পড়েছে শহরটির বাতাসের মানেও। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাহোরের AQI ৪৪৭-এ পৌঁছেছিল। ফলে বিশ্বের দূষিত শহরগুলির তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে এই শহর। সীমান্তের দুই প্রান্তে খড় পোড়ানোর এই পরিসংখ্যান নতুন করে দূষণের উৎস নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা, বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস বইছে। সেই কারণে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে খড় পোড়ানোর ফলে তৈরি ধোঁয়া হরিয়ানা হয়ে দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুধু ধোঁয়ার উৎস থাকলেই দূষণ এতটা বেড়ে যায় না। বাতাসের গতি কমে গেলে দূষিত কণা সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। তার উপর শীতের শুরুতে তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের নীচের স্তরে দূষণ আটকে থাকার প্রবণতাও বাড়ে। ফলে যানবাহন, শিল্প এবং অন্যান্য উৎস থেকে নির্গত দূষিত পদার্থ মিলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। দিল্লির বাতাসের মান খারাপ হওয়ার পিছনে আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

Pakistan one of the main reasons behind the air pollution in Delhi?

আরও পড়ুন: ৭ বছরে ক্ষতি ৪০ বিলিয়ন ডলার! ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ফেরাতে চায় পাকিস্তান

তবে রাজধানীর দূষণের (Air Pollution) সমস্ত দায় পাকিস্তানের উপর চাপানো ঠিক হবে না বলেই সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। দিল্লির নিজস্ব যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ থেকে তৈরি ধুলো, শিল্পাঞ্চলের নির্গমন এবং ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় খড় পোড়ানোর ঘটনাও দূষণের বড় উৎস। অর্থাৎ, সীমান্তের ওপার থেকে আসা ধোঁয়া পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে, কিন্তু দিল্লির দূষণের একমাত্র কারণ সেটি নয়। এর মধ্যেই সামনে দীপাবলি। উৎসবের রাতে ব্যাপক হারে বাজি পোড়ানো হলে বাতাসের গুণমান আরও দ্রুত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ইতিমধ্যেই যখন AQI বিপজ্জনক স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে, তখন অতিরিক্ত ধোঁয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় উৎসগুলির পাশাপাশি আঞ্চলিক স্তরেও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।