বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশজুড়ে ‘জম্বি ড্রাগ’ (Zombie Drug) আতঙ্ক ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। পাঞ্জাব, বেঙ্গালুরু, বিহার থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্র,একাধিক রাজ্যে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কিছু মানুষ মাঝরাস্তায় অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে বেঁকে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই দাবি করছেন, এটি এক ধরনের মারাত্মক মাদকাসক্তির ফল, যার প্রভাবে মানুষ ‘জম্বি’র মতো আচরণ করে। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসনিক মহলে।
ভারতেও এবার Zombie ড্রাগের (Zombie Drug) আতঙ্ক?
এই তথাকথিত ‘জম্বি ড্রাগ’ আসলে ‘ট্রাঙ্ক’ নামে পরিচিত, যা ‘জাইলাজিন’ নামের একটি পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত ট্র্যাঙ্কুলাইজার এবং ফেনটানিলের মিশ্রণে তৈরি বলে জানা যায়। আমেরিকার মতো দেশে এই মাদকের ব্যাপক প্রভাব দেখা গিয়েছে। সিয়াটেল, ফিলাডেলফিয়া বা নিউ ইয়র্কের মতো শহরে নেশাগ্রস্তদের অদ্ভুত আচরণের ভিডিও বহুবার সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ড্রাগ শরীরে প্রবেশ করলে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়, হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয় এবং শরীর প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: একে অপরের দেশে তৈরি করবে সামরিক ঘাঁটি! ভারত-রাশিয়ার মধ্যে কার্যকর বিরাট প্রতিরক্ষা চুক্তি
ভারতে এই ড্রাগের উপস্থিতি নিয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। যদিও মুম্বইয়ের ভাইয়ান্ডার ওয়েস্ট বা চণ্ডীগঢ়, বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন জায়গার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন এই দাবিকে পুরোপুরি খারিজ করেছে। বেঙ্গালুরু পুলিশ জানিয়েছে, একটি ভাইরাল ভিডিওতে যাকে ‘জম্বি ড্রাগ’-এ আক্রান্ত বলা হচ্ছিল, তিনি আসলে মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং চিকিৎসায় কোনও মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
এদিকে চণ্ডীগড় বা উত্তরপ্রদেশ থেকেও একই ধরনের ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে কিছু ব্যক্তিকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা গিয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ঘটনাগুলির সঙ্গে মাদক সংযোগের প্রমাণ মেলেনি। বরং প্রশাসনের মতে, অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য বা ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। এই ধরনের ভুয়ো প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে ১১ হাজারের বেশি পোস্ট, সমাজমাধ্যমে নজর রাখতে কড়া হচ্ছে কমিশন
সব মিলিয়ে ‘জম্বি ড্রাগ’ (Zombie Drug) নিয়ে আতঙ্ক যতটা বাস্তব, তার চেয়ে বেশি তা সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই মাদক বিপজ্জনক বলে প্রমাণিত, ভারতে তার বিস্তারের কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তাই প্রশাসনের পরামর্শ, যাচাই না করে কোনও তথ্য বিশ্বাস না করা এবং গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকা, এই মুহূর্তে সেটাই সবচেয়ে জরুরি।












