বাংলা হান্ট ডেস্ক : চোরবাগান দুর্ঘটনায় (Chorbagan Incident) উঠছে একাধিক প্রশ্ন। কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোথাও ফাঁক ছিল কি না, আর এতগুলি মৃত্যুর দায় কার—এবার সেই উত্তর খুঁজতেই শুরু হচ্ছে বিস্তারিত তদন্ত। হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করেছে। তবে তদন্তের পরিধি যতটা বিস্তৃত, তাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব দিক খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন কমিটির প্রধান।
চোরবাগান দুর্ঘটনায় (Chorbagan Incident) কী বলছেন SIT প্রধান?
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে কাজ করবে এই কমিটি। বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের সচিব, রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের সচিব এবং ডিজি-আইজি-সহ একাধিক আধিকারিককে কমিটিতে রাখা হয়েছে। এর আগে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখন মূল লক্ষ্য, ঘটনার পিছনে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের বিপর্যয় ঠেকানোর উপায় খুঁজে বের করা।
সিটের প্রধান অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর কথায়,” এখনও তো বিস্তারিত কিছু আলোচনা হয়নি। প্রথমে আমাদের দেখতে হবে যে কার দোষে এই ঘটনাটি ঘটল। এতগুলো যে মৃত্যু, সেটা কী কী কারণে? সেটা খুঁজে বার করতে হবে। দোষীদের দোষী সাব্যস্ত করতে হবে। আর যাতে এই ঘটনা না ঘটে, পুজো কমিটিগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হবে। পরবর্তীক্ষেত্রে। ৩ মাসের রিপোর্ট জমা দেওয়াটা চ্যালেঞ্জিং। সময় তো বেশি নেই। তবে চেষ্টা তো করতেই হবে।”
তদন্তকারীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হল, বিপর্যয়ের আগের পরিস্থিতি থেকে শুরু করে দুর্ঘটনার মুহূর্ত পর্যন্ত গোটা ঘটনাপ্রবাহের ছবি তৈরি করা। কোন সময়ে ভিড় বাড়তে শুরু করেছিল, কীভাবে মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়েছিল এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে কোথায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তা অনুসন্ধান করা হবে। ভিড়ের চাপের পাশাপাশি আবহাওয়ার অবনতি, বৃষ্টি বা বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, গুজব ছড়ানো কিংবা প্রবেশ ও বেরনোর পথে বাধা তৈরি হওয়ার মতো সম্ভাব্য কারণও পরীক্ষা করা হবে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইলে তোলা ভিডিয়ো, কল রেকর্ড এবং চিকিৎসার নথি পরীক্ষা করা হতে পারে। পুজোর অনুমতি নেওয়ার সময় জমা দেওয়া পরিকল্পনা, ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি নির্ধারিত নিয়ম মেনে হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মোহন ভাগবতজী যে কথা বলেছেন, সঠিক কথা বলেছেন। এটা মানুষের ভুল। আর সেই মানুষটা কোন জ্যাকেট পরেছিল, কোন জামা পরেছিল, কী লোগোতে ছিল, সেটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম দেখবে।”

আরও পড়ুন : অন্নপূর্ণা যোজনায় ফের আবেদনের সুযোগ, কবে মিলবে ৩,০০০ টাকা?
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “সেই মানুষটা দর্শনার্থী কিনা, চক্রান্তকারী কিনা, টেম্পোরারি হোম গার্ড কিনা, ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবক কিনা, বা অন্য কেউ, সেটা দেখা হবে। মাইকে তো বলার দরকার ছিল না, প্যান্ডেল ভেঙে পড়বে। আমি তো মাঝ রাতে ২টোর সময়ে গিয়ে দেখেছি, তখন তো প্যান্ডেল ভেঙে পড়েনি। আমি তো নিজেই গোটা প্যান্ডেল ঘুরে দেখেছি। এটা দরকার ছিল না। যাঁরা দড়িটা ধরে দাঁড়িয়েছিল, তাঁদের দড়িটা ছেড়ে যাওয়ার দরকার ছিল না।” চোরবাগান দুর্ঘটনায় তদন্তের সব দিক যাচাই করে তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে খোদ সিটের প্রধানেরই।














