বাংলা হান্ট ডেস্কঃ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (Swasthya Sathi) থাকলেও বেসরকারি হাসপাতালে ঢুকলে খরচের চিন্তা পিছু ছাড়ে না সাধারণ মানুষের। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ, এই প্রকল্প নিতে অনীহা দেখায় একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল। সেই পরিস্থিতি বদলাতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা।
স্বাস্থ্যসাথী (Swasthya Sathi) বাধ্যতামূলক প্রস্তাব আনল কলকাতা পুরসভা
শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে স্বাস্থ্যসাথী (Swasthya Sathi) বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ করাতে এবার বিল্ডিং রুলে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব আনল কলকাতা পুরসভা। প্রস্তাবিত বাজেটে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যে বেসরকারি বা সরকারি হাসপাতাল স্বাস্থ্যসাথী বাধ্যতামূলকভাবে নেবে, তারা হাসপাতালের ভিতরে নির্মাণ বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় পাবে। অর্থাৎ ফ্লোর এরিয়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিল্ডিং রুলে ছাড় দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। পুরসভার মতে, এতে হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন সহজ হবে এবং একইসঙ্গে স্বাস্থ্যসাথীর গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে।
শহরজুড়ে গত এক দশকে দ্রুত বেড়েছে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের সংখ্যা। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সময়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সরকারি হাসপাতাল এড়িয়ে অনেকেই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে ঝুঁকছেন। ফলে বেড সংখ্যা ও হাসপাতালের চত্বর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে। কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের অনুমান, বিল্ডিং রুলে এই ছাড় পেলে বেসরকারি হাসপাতালগুলির পক্ষে সম্প্রসারণ করা অনেকটাই সহজ হবে। তবে সেই সুবিধার বিনিময়ে স্বাস্থ্যসাথী (Swasthya Sathi) গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে চায় পুরসভা।

আরও পড়ুনঃ সামান্য বিলের আড়ালে কোটি কোটি টাকা! কয়লা মামলায় বড় সাফল্য ED-র
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যসাথী (Swasthya Sathi) প্রকল্প নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলির অনীহা আগেও প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েক বছর আগে এক প্রশাসনিক সভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করতেও রাজ্য সরকার দ্বিধা করবে না।এবার সেই প্রেক্ষাপটেই স্বাস্থ্যসাথী বাস্তবায়নে আরও কড়া ও কার্যকর অবস্থান নিল কলকাতা পুরসভা।












