চার বছরের মধ্যেই মেট্রোর ভোলবদল, খোলনলচে বদলে নতুন প্রযুক্তি স্টেশনগুলিতে

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক : দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম মেট্রো (Kolkata Metro) ছুটেছিল এই কলকাতার বুকেই। চল্লিশ বছরেরও বেশি পুরনো কলকাতা মেট্রোতে তারপর থেকে নানান বদল এসেছে। পুরনো রেক বদলে এসেছে নতুন এসি রেক। আর এবার ভূগর্ভস্থ স্টেশন এবং সুড়ঙ্গের মধ্যে বাতানুকূল ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে উদ্যোগী হল কলকাতা মেট্রো (Kolkata Metro)। ভবিষ্যতের কথা ভেবে উত্তর দক্ষিণ মেট্রোর পরিকাঠামো বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

বদলাচ্ছে কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro) বাতানুকূল ব্যবস্থা

জানা গিয়েছে, বর্তমানে ভূগর্ভস্থ যে স্টেশন এবং লাগোয়া সুড়ঙ্গ, সেখানে বাতানুকূল ব্যবস্থায় বাতাস ঠাণ্ডা রাখতে জল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এবার তা বদলে বাতাসনির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এতে বছরে যেমন প্রায় ১৮ কোটি লিটার জল সাশ্রয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর বিদ্যুৎও বাঁচবে। অর্থাৎ বছরে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ১৮ কোটি টাকা বছরে বিদ্যুৎ সাশ্রঢ় করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

Kolkata Metro air conditioning system is changing

কীভাবে শুরু হবে কাজ: বুধবার মেট্রো কর্তৃপক্ষের থরফে নোয়াপাড়া কারশেডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজের সূচনা হয়েছ। জানা যাচ্ছে, দমদম থেকে টালিগঞ্জের মধ্যে মোট ১৫ টি ভূগর্ভস্থ স্টেশনে এই কাজ হবে। মেট্রো (Kolkata Metro) সূত্রে খবর, প্রাথমিক ভাবে বেলগাছিয়া থেকে পাঁচটি স্টেশন ধরে শুরু হবে কাজ। ধীরে ধীরে অন্যান্য স্টেশনে এবং টানেলেও প্রযুক্তি বদলের কাজ শুরু হবে।

আরও পড়ুন : টিজার মুক্তির পর ২৪ ঘন্টাও কাটল না, আইনি বিপাকে ‘ধুরন্ধর ২’, দায়ের এফআইআর

কমবে বিদ্যুতের খরচ: জানা গিয়েছে, উত্তর দক্ষিণ মেট্রোয় জল নির্ভর সুড়ঙ্গ ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থায় রয়েছে মোট ৪৬ টি কুলিং টাওয়ার। এর মধ্যে ৩০ টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। অন্যদিকে রবীন্দ্র সরোবর, চাঁদনি চক এবং কালীঘাট স্টেশনেও জল নির্ভর বাতানুকূল যন্ত্রের মেয়াদ আগামী দু বছরের মধ্যেই ফুরিয়ে যাবে। এগুলি অবিলম্বে বদল প্রয়োজন। উল্লেখ্য, পুরনো বাতানুকূল ব্যবস্থায় দুটি ভূগর্ভস্থ স্টেশনের মাঝে একটি করে ধরে ১৪ টি ১১০ কিলোওয়াটের পাখা চলে সর্বক্ষণ। সুড়ঙ্গের একটি নির্দিষ্ট খোলা অংশে ঠাণ্ডা বাতাস টেনে ঢোকায় ওই পাখাগুলি। এই প্রযুক্তিতে বিদ্যুতের খরচ বেশি।

আরও পড়ুন : অরিজিৎকে প্লেব্যাকে ফিরতে রাজি করাতেই এসেছিলেন আমির! কী নিয়ে মুম্বই ফিরলেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’?

অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তিতে ভ্যারিয়েবল ড্রাইভ যুক্ত পাখা ব্যবহৃত হবে যা হাওয়াকে সুড়ঙ্গের অক্ষ বরাবর পেছন থেকে টেনে সামনে ছুড়ে দেবে। এতে কমবে বিদ্যুতের খরচ। এর সঙ্গে থাকবে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা। আগুন লাগলে তা নির্ণয়ের সঙ্গে সঙ্গে আগুনের কাছে যাতে বাতাস না পৌঁছায় তার ব্যবস্থা করা হবে। বড় কোনও অগ্নিকাণ্ড হলে সুড়ঙ্গের মধ্যে বায়ু চলাচল অব্যাহত রাখতে অগ্নিনিরোধক বিশেষ কেবল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে খবর। এই ব্যবস্থায় প্ল্যাটফর্মে থাকছে না ফলস সিলিং। ফলত সুড়ঙ্গের তাপমাত্রা যদি ২৫০ ডিগ্রিও হয় তাও ওই ব্যবস্থা কাজ করবে। প্রায় ৫৮৫ কোটি টাকা খরচ হতে চলেছে এই কাজে। আগামী চার বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে মেট্রো।