বন্দিদের জন্যও এবার দামি চালের ভাত-টাটকা মাছ! আদালতের লকআপে নতুন মেনুতে আর কী কী?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক : জেলের খাবার মানেই যে বিভীষিকা! চালে কাঁকর, ট্যালট্যালে ডাল, যা কার্যত মুখে তোলা যায় না। জেলের (Kolkata Police) খাবার নিয়ে চিরাচরিত ভাবনার এবার অবসান হতে চলেছে। বন্দি বলে কি মানুষ নয়? এবার তাই বন্দিদের জন্য জেলের মেনুতে আসছে বদল। আদালতের লকআপে বিচারাধীন বন্দিদের জন্য নতুন মেনু সেট করেছে লালবাজার।

আদালতের লকআপে নতুন মেনু কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police)

কোর্ট লকআপে নিয়ে আসার পর বন্দিদের চার বেলার খাবারের জন্য মেনুর দিকে এবার বিশেষ নজর দিল কলকাতা পুলিশ। দিতে হবে গরম খাঁটি গরুর দুধ। শুধু খাবারের পরিমাণই নয়, নজর রাখতে হবে খাবারের মানের দিকেও। এ বিষয়ে কড়াকড়ি শুরু করেছে কলকাতা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্স বিভাগ। লালবাজার সূত্রে খবর, প্রাথমিক ভাবে সিটি সেশন এবং ফাস্ট ট্র্যাক আদালত ও এসিএম (২) আদালত লকআপের বন্দিদের জন্য এই মেনু তৈরি হচ্ছে। ধীরে ধীরে শহরের অন্যান্য আদালতের লকআপের বন্দিদের জন্যও মেনুতে বদল আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে খবর। জানা যাচ্ছে, আদালতে নিয়ে আসা বন্দিদের জন্য দিন এবং রাতের খাবারের ব্যবস্থা ছাড়াও থাকছে প্রাতরাশ এবং সান্ধ্যকালীন খাবারও।

Kolkata Police instructed new menu for court lockup

কী কী থাকছে মেনুতে: কী থাকছে মেনুতে? পুলিশ (Kolkata Police) জানিয়েছে, প্রথম শ্রেণির বন্দিদের সকাল রাত দুবেলাই বরাদ্দ থাকবে ভাত, ডাল, রুটি, তরকারি, মাছের ঝোল। মাছ যারা খাবেন না, তাদের জন্য থাকবে মরশুমি ফল। দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দিদের জন্যও বরাদ্দ একই খাবার, তবে এক্ষেত্রে মাছ না খেলে তিনি পাবেন দুধ বা দই। দুই শ্রেণির বন্দিদের জন্যই প্রাতরাশে থাকবে চা-পাউরুটি। বিকেল বা সন্ধ্যায় চা এবং দুটি বিস্কুট! প্রত্যেক বন্দির ক্ষেত্রে খাবারের পরিমাণ রয়েছে মাপা- চাল ২৪৮ গ্রাম, আটা ২৪৭ গ্রাম, ডাল ১৪৫ গ্রাম, সবজি ২০০ গ্রাম, আলু ৫৮ গ্রাম, ভেলি গুড় সাড়ে ১৪ গ্রাম, মাছ সাড়ে ১৪ গ্রাম।

আরও পড়ুন : বারাসত বিধানসভায় মুখ বদল? চিরঞ্জিতের বদলে প্রার্থী কাকলি-পুত্র? তুঙ্গে জল্পনা

রান্নার মান ভালো করার নির্দেশ: পুলিশি নির্দেশ, প্রথম শ্রেণির বন্দিদের দিতে হবে দামি সরু চাল, দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দিদের জন্য থাকবে মাঝারি মানের চাল, তবে কোনও কাঁকর, ময়লা থাকা চলবে না। টাটকা সবজি দিয়ে তরকারি করতে হবে, বন্দিদের পাতে পড়বে শুধু রুই, কাতলা, মৃগেল। খাঁটি সরষের তেল ব্যবহার করতে হবে রান্নায়। রান্না ভালো হতে হবে। খাবারও পরিবেশন করতে হবে গরম গরম।

আরও পড়ুন : পরীক্ষা শুরুর আগেই একগুচ্ছ নয়া নিয়ম, নির্দেশিকা জারি করল সিবিএসই বোর্ড

লালবাজার সূত্রে খবর, আদালত লক আপে আগে প্রত্যেক বন্দির খাবারের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ টাকা ৭৩ পয়সা। সেটা এখন বেড়ে হল ৭৩ টাকা ৫০ পয়সা। পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিচারাধীন বন্দিদের সাধারণত আদালতে হাজিরা দেওয়ার আগে জেলেই খেয়ে নিতে হয়। কিন্তু এখন সেখানে চা আর দুটি পাউরুটি বা বিস্কুট দেওয়া হয়।