বাংলাহান্ট ডেস্ক: লাদাখের (Ladakh) সঙ্গে সারা বছরের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্র সরকার। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফোটু লা পাসে নতুন সুড়ঙ্গ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রক। জাতীয় সড়ক-১-এর অংশ হিসেবে নির্মিত হতে চলা এই সুড়ঙ্গ চালু হলে কাশ্মীর ও লাদাখের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত এবং নিরাপদ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে শীতকালে ভারী তুষারপাতের কারণে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তার স্থায়ী সমাধান হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই প্রকল্পকে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই সুড়ঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এবার সব ঋতুতেই সড়কপথে পৌঁছনো যাবে লাদাখ (Ladakh), বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
কেন্দ্রীয় সরকার চলতি বছরের মে মাসেই ফোটু লা সুড়ঙ্গ প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। ফোটু লা ও জোজিলা—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সুড়ঙ্গ নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধুমাত্র ফোটু লা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৮২৪.১২ কোটি টাকা। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বহু প্রতীক্ষিত জোজিলা সুড়ঙ্গের নির্মাণকাজও শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ৯ জুন এ উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর। যদিও সুড়ঙ্গটি এখনই সাধারণ যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে না, তবে নির্মাণের অগ্রগতি দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে (Ladakh)।
আরও পড়ুন:মোদীর মুকুটে যুক্ত হচ্ছে নতুন পালক! জওহরলাল নেহেরুর রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরির পথে প্রধানমন্ত্রী
ফোটু লা সুড়ঙ্গটি শ্রীনগর-কার্গিল-লেহ সড়কের সবচেয়ে দুর্গম ও উচ্চতম অংশে নির্মিত হবে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,১০৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই অঞ্চলে বছরের অধিকাংশ সময়ই বরফে ঢাকা থাকে রাস্তা। প্রকল্প অনুযায়ী, দুটি সমান্তরাল সুড়ঙ্গ নির্মাণ করা হবে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় দুই কিলোমিটার। সংযোগকারী রাস্তা-সহ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য হবে ২.৬৫ কিলোমিটার। এই সুড়ঙ্গ শ্রীনগর, কার্গিল ও লেহকে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করবে। প্রকৌশলগত দিক থেকে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভৌগোলিক পরিস্থিতির মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে হবে।
বর্তমানে শীতকালে ফোটু লা অঞ্চলে পাঁচ থেকে দশ ফুট পর্যন্ত তুষারপাত হয়। ফলে রাস্তা প্রায়ই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে এবং নিয়মিত বরফ সরানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়। তুষারপাতের কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়, পাহাড়ি বাঁকগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। বহু ক্ষেত্রে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হয়। এই পরিস্থিতি শুধু সাধারণ মানুষের জন্য নয়, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে। তাই সুড়ঙ্গ নির্মাণের মাধ্যমে আবহাওয়ার প্রভাব থেকে সড়ক যোগাযোগকে অনেকটাই মুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঠিক যেন হর্ষদ মেহতার কাহিনি! শেয়ার বাজারে ১৫ লক্ষ কোটির কেলেঙ্কারি রাজেশ এক্সপোর্টের
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোটু লা ও জোজিলা সুড়ঙ্গ চালু হলে লাদাখের (Ladakh) সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। যাতায়াতের সময় কমবে, পরিবহণ খরচ হ্রাস পাবে এবং পর্যটন শিল্পও নতুন গতি পাবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা মোতায়েন, জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ আরও সহজ হবে। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ভারত-চিন সীমান্ত উত্তেজনার পর থেকেই এই অঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র। সেই কৌশলগত পরিকল্পনারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফোটু লা সুড়ঙ্গ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু লাদাখের উন্নয়ন নয়, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।













