ঠিক যেন হর্ষদ মেহতার কাহিনি! শেয়ার বাজারে ১৫ লক্ষ কোটির কেলেঙ্কারি রাজেশ এক্সপোর্টের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: শেয়ার বাজারে ফের বড়সড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজেশ এক্সপোর্টস (Rajesh Exports) দেশের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া বা সেবি-র একটি তদন্ত রিপোর্টকে কেন্দ্র করে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক স্বর্ণ ও রত্ন প্রস্তুতকারী সংস্থা রাজেশ এক্সপোর্টস। সেবির দাবি, গত কয়েক বছর ধরে সংস্থাটি তাদের আর্থিক বিবরণীতে বিপুল পরিমাণ গরমিল দেখিয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকৃত আর্থিক অবস্থার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই শেয়ার বাজারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই নব্বইয়ের দশকের বহুল আলোচিত শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে এই ঘটনার তুলনা টানতে শুরু করেছেন।

শেয়ার বাজারে ১৫ লক্ষ কোটির কেলেঙ্কারি রাজেশ এক্সপোর্টের (Rajesh Exports)

সেবির প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পাঁচ বছর রাজেশ নিজেদের আয় ও ব্যবসায়িক লেনদেনের তথ্য বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশে থাকা একাধিক সহযোগী বা সাবসিডিয়ারি সংস্থার মাধ্যমে রাজস্বের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল। সেই ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো আয়কে ভিত্তি করেই সংস্থাটি বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই আর্থিক তথ্যের সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে এবং সংস্থার প্রকাশিত বার্ষিক রিপোর্টে উল্লেখিত বিপুল অঙ্কের রাজস্বের অধিকাংশেরই যথাযথ ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ফলে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও সামনে এসেছে (Rajesh Exports)।

আরও পড়ুন: ভুল পথে এগোচ্ছে দেশ! একাধিক সঙ্কটে জর্জরিত পাকিস্তানের ওপর ভরসা হারাচ্ছেন খোদ পাকিস্তানিরাই

রাজেশ এক্সপোর্টসের প্রকাশিত আর্থিক নথি অনুযায়ী, পাঁচ বছরে সংস্থার মোট আয় ছিল প্রায় ১৫ লক্ষ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সেবির রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই হিসাবের ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত প্রকৃত নয় বা যাচাইযোগ্য নয়। অর্থাৎ প্রায় ১৫ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিপুল অঙ্কের গরমিল প্রকাশ্যে আসতেই বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা এলআইসিরও উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব রয়েছে এই সংস্থায়। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজেশ এক্সপোর্টসে এলআইসির মালিকানা প্রায় ১০.৮ শতাংশ। ফলে এই বিতর্কে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের স্বার্থও জড়িয়ে পড়েছে।

তদন্তের ভিত্তিতে সেবি ইতিমধ্যেই সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজেশ মেহতার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁকে আপাতত শেয়ার বাজারে অংশগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৩ জুন প্রকাশিত এই নির্দেশিকার পর থেকেই বাজারে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। পরদিন সংস্থার শেয়ারের দামে প্রায় পাঁচ শতাংশ পতন ঘটে। যদিও সেবি স্পষ্ট করেছে যে তদন্ত এখনও চলমান এবং এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ভবিষ্যতে আরও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

Rajesh Exports accused for15 Trillion Stock Market Scam

আরও পড়ুন: একধাক্কায় বেতন বাড়ল প্রায় ৫০%! রাজ্যের এই কর্মীদের নিয়ে বড় ঘোষণা সরকারের

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এত বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারি ব্যবস্থার নজর এড়াল কীভাবে। দলের নেতা জয়রাম রমেশ দাবি করেছেন, সংস্থাটির অস্বাভাবিক আয় ও আর্থিক তথ্য নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন তোলা উচিত ছিল। পাশাপাশি এলআইসির বিনিয়োগ নিয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছে বিরোধীরা। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সেবির এই তদন্ত ভারতীয় শেয়ার বাজারে কর্পোরেট স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রক নজরদারি এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে (Rajesh Exports)।