৫ দিনের চিরুনি তল্লাশির পর বড় সাফল্য! জম্মু ও কাশ্মীরে নিকেশ লস্করের A++ কমান্ডার জাকির গানাই

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। টানা পাঁচ দিন ধরে অভিযান চালানোর পর সোপিয়ান জেলার সাতটি গ্রাম জুড়ে পরিচালিত চিরুনি তল্লাশির শেষে নিহত হয়েছে লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ কমান্ডার জাকির গানাই। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার তার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের A++ ক্যাটাগরির তালিকাভুক্ত এই জঙ্গি দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা বাহিনীর নজরে ছিল। কয়েকদিন আগেই জঙ্গলের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল জাকির এবং তার সহযোগী লতিফ ভাট। সেই সূত্র ধরেই শুরু হয়েছিল ব্যাপক অভিযান। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই সাফল্য কাশ্মীরে জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে চলা অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) নিকেশ লস্করের A++ কমান্ডার জাকির গানাই

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩ জুলাই সোপিয়ানের একটি ফলের বাগান সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি ক্যামেরায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা পড়ে। পরে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় জাকির গানাই এবং লতিফ ভাট হিসেবে। দু’জনেই দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার বাসিন্দা। এই তথ্য হাতে আসার পরই সেনাবাহিনী, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার যৌথ বাহিনী এলাকায় বিশাল অভিযান শুরু করে। সোপিয়ানের সাতটি গ্রাম ঘিরে ফেলে ধাপে ধাপে তল্লাশি চালানো হয়। জঙ্গিদের পালানোর সম্ভাব্য সমস্ত রাস্তায় কড়া নজরদারি বসানো হয় এবং রাতের অভিযান নির্বিঘ্ন করতে এলাকায় অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থাও করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় (Jammu and Kashmir)।

আরও পড়ুন: রক্ষাকবচ পেয়েও ভয় ! কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে আজও আদালতমুখো হলেন না অভিষেক

অভিযানের শেষ পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনী একটি ফলের বাগানে তল্লাশি চালাতে গেলে সেখানে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরা আচমকাই গুলি চালাতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দেয় যৌথ বাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই চলে। শেষ পর্যন্ত জাকির গানাই নিহত হয় বলে নিশ্চিত করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় জঙ্গি লতিফ ভাট এখনও পলাতক। তাকে ধরতে গোটা এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, লতিফকে গ্রেপ্তার বা নিষ্ক্রিয় করা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। পুরো এলাকায় এখনও কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে যাতে কোনও জঙ্গি পালিয়ে যেতে না পারে।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, জাকির গানাই ২০২৪ সালে লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কাশ্মীরে একাধিক সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই কারণেই গোয়েন্দা সংস্থার ‘A++’ ক্যাটাগরির সর্বাধিক ওয়ান্টেড জঙ্গিদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, লতিফ ভাটও গত বছর জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয় এবং দক্ষিণ কাশ্মীরে সংগঠনের কার্যকলাপ সম্প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। দু’জনের গতিবিধির উপর দীর্ঘদিন ধরেই নজর রাখছিল নিরাপত্তা বাহিনী।

Lashkar's top commander Zakir Ganai eliminated in Jammu and Kashmir.

আরও পড়ুন: বাড়িওয়ালা কি ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াতে পারেন? গুরুত্বপূর্ণ রায় হাইকোর্টের

কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) জঙ্গি কার্যকলাপ দমনে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী ধারাবাহিকভাবে একাধিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি, ড্রোন, থার্মাল ক্যামেরা এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানের ফলে জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। জাকির গানাইয়ের মৃত্যু লস্কর-ই-তইবার জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে, অভিযান এখানেই শেষ নয়। পলাতক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কাশ্মীরে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও জারি থাকবে।