বাংলাহান্ট ডেস্ক: শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামোর উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand)। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ইসলামিক মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি মাস থেকেই এই বোর্ড কার্যত আর অস্তিত্বে থাকবে না। তার পরিবর্তে গঠন করা হয়েছে ‘উত্তরাখণ্ড স্টেট মাইনরিটি এডুকেশন অথরিটি’, যা রাজ্যের সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে নতুন কাঠামোর মধ্যে আনবে।
উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand) পুরোপুরি বন্ধ হতে চলেছে মাদ্রাসা:
সূত্রের খবর, সরকারি সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ২৫০-র বেশি অবৈধ মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানগুলির অনেকগুলিরই কোনওরকম বৈধ নথিপত্র ছিল না এবং সেগুলিতে শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণেরও অভাব ছিল। এখন এই জায়গাগুলিকে আধুনিক স্কুলে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যেখানে বিজ্ঞান, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান ও কম্পিউটার শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: এপ্রিলেই বড় আপডেট! স্বল্প সঞ্চয়ে সুদের হার নিয়ে নয় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র
মুখ্যমন্ত্রী ধামি জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্যই হল শিক্ষার মান আরও উন্নত করে ছাত্রছাত্রীদের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা। তাঁর মতে, কিছু মাদ্রাসায় পড়ুয়াদের সঠিক দিশা দেওয়া হচ্ছিল না। তাই অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ করে সেখানে আধুনিক শিক্ষায় তাঁদের গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সমস্ত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজ্য শিক্ষা বোর্ডের আওতায় আনা হবে এবং ধর্মীয় শিক্ষা শুধুমাত্র নিয়মিত পাঠের পরে সীমাবদ্ধ থাকবে।
তবে অন্যদিকে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে কিছু ক্ষেত্রে উদ্বেগ ও বিতর্কও তৈরি হয়েছে। উত্তরাখণ্ডে প্রায় ৪৫০ টি রেজিস্টার্ড মাদ্রাসায় ৪০ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করত। হঠাৎ এই পরিবর্তনে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এখন পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং তারা কোথায় পড়াশোনা করবে। এক মাদ্রাসা শিক্ষক জানিয়েছেন, এতদিন ধর্মীয় শিক্ষার উপর ভিত্তি করে পড়ানো হলেও এখন সম্পূর্ণ নতুন আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মানিয়ে নেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: কালিয়াচক কাণ্ডে তদন্তে নামছে NIA, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শুক্রবারেই শুরু কাজ
পাশাপাশি, সরকারের সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক সংস্কার’ হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের দাবি, ‘অপারেশন কলনেমি’ অভিযানের মাধ্যমে উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুন, হরিদ্বার, উধম সিং নগর ও নৈনিতাল-সহ বিভিন্ন জেলায় অবৈধ মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ছাত্রছাত্রীরা আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ পাবে।












