বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Election Commission of India) জ্ঞানেশ কুমারের (SIR) পদত্যাগের দাবিতে শনিবার উত্তাল হয়ে ওঠে দিল্লি। এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই শনিবার গভীর রাতে নতুন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজস্থান ক্যাডারের ২০১০ সালের আইএএস আধিকারিক প্রকাশ রাজপুরোহিতকে (Prakash Rajpurohit) এই পদে নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের সরব হওয়ার আবহে এই নিয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এটি নিয়মিত রদবদলেরই অংশ। শনিবার রাতে প্রকাশ রাজপুরোহিত-সহ মোট ২৭ জন আধিকারিককে বিভিন্ন দফতরের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবির আবহেই নির্বাচন কমিশনে (Election Commission of India) বড়সড় রদবদল:
নতুন নিয়োগের আগে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পদে ছিলেন সঞ্জয় কুমার। ২০২৪ সালের অগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের অগস্ট পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কাজকর্মের দায়িত্বও তাঁর হাতে ছিল। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, গত বছর ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার বা এনআইসি থেকে ডেপুটেশনে নির্বাচন কমিশনে যোগ দেন সীমা খন্না। পরবর্তী সময়ে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর হাতে আসে। ভোটার তালিকার ডিজিটাল প্রক্রিয়া পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখানে উল্লেখ করা হয়নি (Election Commission of India)।
আরও পড়ুন: ছিলেন NSG কমান্ডো, কৃষিতে করলেন বাজিমাত! ৭৫ একর জমিতে চাষাবাদে বার্ষিক ২ কোটি আয় মুকেশের
সঞ্জয় কুমারকে আগাম অব্যাহতি দেওয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, সীমা খন্নার হাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পর সঞ্জয় কুমারকে কার্যত পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, কমিশনের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরই সঞ্জয়কে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা না থাকায় বিষয়টিকে বিরোধীদের অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধনের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি—এই যুক্তিতেই বিরোধীরা গোটা প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দাবি করছে।
এই বিতর্ক আরও জোরালো হয় ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি লিখেছিলেন কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। প্রতিবেদনের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমা খন্নার ভূমিকা এবং কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সঞ্জয় কুমারকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন জ্ঞানেশ কুমারের দুই সহকারী কমিশনার বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য সামনে না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন। তা সত্ত্বেও কমিশনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: পিছু ছাড়ছে না বিপর্যয়! ফের হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল, ভেসে গেল বাড়িঘর-সেতু
এদিকে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবারও আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস এবং ককরোচ জনতা পার্টি। অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানো না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বিরোধী শিবির। এই পরিস্থিতিতে নতুন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের সময়কালকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। যদিও কেন্দ্রের প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, ২৭ জন আধিকারিকের নিয়োগ ও পদবদলের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা উচিত। ফলে প্রকাশ রাজপুরোহিতের নিয়োগকে ঘিরে জল্পনা থাকলেও, এর সঙ্গে এসআইআর বিতর্কের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলার মতো তথ্য এখনও সামনে আসেনি (Election Commission of India)।













