বাংলা হান্ট ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধের আবহে সমগ্র বিশ্ব প্রভাবিত হচ্ছে। এমতাবস্থায়, ভারতে LPG (Liquefied Petroleum Gas) সরবরাহ জোরদার করার জন্য পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের ওপর বর্তমান বিশ্বব্যাপী উত্তেজনার প্রভাবের আবহেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই মন্ত্রক এক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, ‘বর্তমান পরিস্থিতির কারণে, জ্বালানি সরবরাহ প্রভাবিত হচ্ছে এবং LPG সরবরাহও চাপের মধ্যে রয়েছে।’ এমতাবস্থায়, মন্ত্রক তেল শোধনাগারগুলিকে LPG-র উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এই অতিরিক্ত উৎপাদন দেশীয় LPG-র জন্য ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে।
LPG (Liquefied Petroleum Gas) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সরকারের:
এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ঘরোয়া কাজে ব্যবহৃত LPG-র সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। পাশাপাশি, গ্যাসের অতিরিক্ত মজুত এবং কালোবাজারি বন্ধ করতে ২৫ দিনের ইন্টার-বুকিং নিয়ম লাগু করা হয়েছে। এদিকে, আমদানি করা LPG হাসপাতাল থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো অত্যাবশ্যকীয় অ-গার্হস্থ্য ব্যবহারকারীদের জন্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
Government of India invokes the Essential Commodities Act, 1955, to regulate the availability, supply and equitable distribution of petroleum and petroleum products and natural gas pic.twitter.com/OqtsDwb13s
— ANI (@ANI) March 10, 2026
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের ফলে সরবরাহ সংক্রান্ত ব্যাঘাত মোকাবিলা করার জন্য গ্যাসের প্রাপ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে LPG উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়ার জন্য জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছিল। ভারত সরকার পেট্রোলিয়াম, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাপ্যতা থেকে শুরু করে সরবরাহ এবং ন্যায়সঙ্গত বন্টন নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের (Essential Commodities Act) অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। মূলত, সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল গার্হস্থ্য ব্যবহারের জন্য PNG এবং যানবাহনের জন্য CNG-র ১০০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করা। এছাড়াও প্রায় ৭০ শতাংশ গ্যাস সার কারখানাগুলিতে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ শিল্পগুলিতে সরবরাহ করার ক্ষেত্রেও মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর অর্থ হল যদি গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে গৃহস্থালি এবং পরিবহণ প্রথমে তা পাবে। তারপরে অন্যান্য খাতগুলিতে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: IPL-এর সঙ্গে টক্কর দিতে গিয়ে ল্যাজে-গোবরে অবস্থা পাকিস্তানের! বড় সঙ্কটের সম্মুখীন PSL
হোটেল ও রেস্তোরাঁর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়: উল্লেখ্য যে, ২০২৪-২৫ সালে ভারত ৩১.৩ মিলিয়ন টন LPG ব্যবহার করেছিল। যার মধ্যে মাত্র ১২.৮ মিলিয়ন টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকিটা আমদানি করা হয়েছিল। তবে, বর্তমানে আমদানি ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কারণ এই আমদানির ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ আসে সৌদি আরবের মতো দেশ থেকে। এমতাবস্থায়, এই আমদানি হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। এদিকে, ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলি হামলা এবং প্রতিবেশী দেশগুলির মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার পর ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গিয়েছে। যার ফলে হরমুজ প্রণালী এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে, ভারতের তেল পরিশোধন ক্ষমতা অতিরিক্ত হলে LPG উৎপাদনের ঘাটতি রয়েছে। মন্ত্রক অন্যান্য অ-গার্হস্থ্য খাত, যেমন রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং শিল্পের ব্যবহারের জন্য একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং অন্যান্য শিল্পের LPG সরবরাহের চাহিদা পর্যালোচনা করার জন্য তেল কোম্পানিগুলির (OMCs) ৩ জন কার্যকরী নির্দেশকের (ED) সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: T20 বিশ্বকাপের বেস্ট টিম বেছে নিল ICC! স্থান পেলেন ভারতের মাত্র ৪ জন খেলোয়াড়
কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: জানিয়ে রাখি যে, এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হল যখন তেলের দাম ওঠানামা করছে। হরমুজ প্রণালী হঠাৎ বন্ধ হওয়ার কারণে এটি ঘটেছে। যা শাসাপ্লাই চেনে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলেছে। ইতিমধ্যেই অনেক দেশ তাদের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করেছে। ফলস্বরূপ, ইরাক থেকে ধুয়ে করে কুয়েত এবং কাতার তাদের জ্বালানি সরবরাহের কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। তবে, মন্ত্রক বলছে যে, তাদের এই পদক্ষেপগুলির উদ্দেশ্য হল বিশ্বব্যাপী সঙ্কট সত্ত্বেও, ভারতে পরিবার এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলিতে LPG সরবরাহ যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বজায় রাখা যায় তা আগেভাগে নিশ্চিত করা।












