বাংলাহান্ট ডেস্ক: ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) অপসারণের দাবিতে রবিবার, ১ নভেম্বর দিল্লিতে (Delhi Protest) বড়সড় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নামছে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিল্লির রামলীলা ময়দানে চলবে এই কর্মসূচি। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতানেত্রীর। এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব মিলিয়ে রবিবারের এই সমাবেশ ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের এই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, কেন্দ্রবিরোধী বিশিষ্টজন এবং সাধারণ মানুষেরও অংশ নেওয়ার কথা।
দিল্লিতে (Delhi Protest) রবিবারের বিক্ষোভে রাহুলদের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও:
সমাবেশকে ঘিরে ভিড়ের সম্ভাবনা এতটাই বেশি যে নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের অনুমান, রামলীলা ময়দানে বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েত হতে পারে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্য থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে বহু গাড়ি দিল্লিতে পৌঁছতে পারে। ফলে মধ্য দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবারই রামলীলা ময়দান পরিদর্শন করেন দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। সমাবেশস্থল এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ভিড় সামলানোর পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, জমায়েতের জেরে দিনের একটা বড় সময় শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে (Delhi Protest)।
আরও পড়ুন: ২৫ বছর চাকরির পর শুরু পরিবেশবান্ধব ব্যবসা! তাতেই বাজিমাত বিনয়ের, মিলছে ৩৫ লক্ষের টার্নওভার
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এবার প্রযুক্তির উপরেও বিশেষ জোর দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। রামলীলা ময়দান এবং সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ২০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত ক্যামেরা। মোট ১৪টি জোনে ভাগ করে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা চিহ্নিত করা, নিরাপত্তার ফাঁকফোকর খুঁজে দেখা—সব ক্ষেত্রেই এই নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বড় রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার এমন ব্যবস্থা রাজধানীতে বাড়তি সতর্কতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েতের মধ্যে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকেই বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, রবিবারের যানজট সামাল দিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও মোড়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে নেতাজি সুভাষ মার্গ টি-পয়েন্ট, রাজঘাট, দিল্লি গেট, আইটিও এ-পয়েন্ট, আজমেরি গেট রেড লাইট, রঞ্জিত সিং ফ্লাইওভার, ঝান্ডেওয়ালান গোলচত্বর, তুর্কমান গেট এবং মিরদার্ড চক-সহ বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। বাহাদুর শাহ জাফর মার্গ, রাজঘাট-জেএলএন মার্গ, ডিবিজি রোড এবং মিন্টো রোডেও যান চলাচলে বিধিনিষেধ জারি হতে পারে। তাই রবিবার এই রাস্তাগুলি ব্যবহার করার আগে যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সমুদ্রের বুকে নতুন নজির! প্রথম প্রচেষ্টাতেই INS Vikrant-এর ডেকে সফল অবতরণ রাফালের
যানজট মোকাবিলায় সেন্ট্রাল রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা এবং সমাবেশস্থলের আশপাশে যানবাহনের চাপ কমানোও পুলিশের পরিকল্পনার অংশ। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশের দিকে। রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিরোধী নেতাদের একই কর্মসূচিতে উপস্থিতি রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। তবে কত মানুষ শেষ পর্যন্ত জমায়েত হন এবং সেই ভিড় রাজধানীর পরিস্থিতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, তা স্পষ্ট হবে রবিবারই। একদিকে ভোটচুরির অভিযোগকে সামনে রেখে বিরোধীদের শক্তি প্রদর্শন, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চ্যালেঞ্জ—এই দুইয়ের মধ্যেই রবিবার কার্যত কড়া নজরদারিতে থাকতে চলেছে দিল্লি (Delhi Protest)।












