বাংলা হান্ট ডেস্ক: ৪ দিনের ভারত সফরে শনিবার সকালে কলকাতায় পৌঁছলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio)। প্রায় ১৪ বছর পরে আমেরিকার কোনও বিদেশসচিবের কলকাতা সফর ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। এর আগে ২০১২ সালের মে মাসে মার্কিন বিদেশসচিব হিসেবে কলকাতায় এসেছিলেন হিলারি ক্লিনটন। এদিন বিমানবন্দরে নামার পর রুবিও সরাসরি যান মধ্য কলকাতার মাদার হাউসে। সেন্ট টেরেসার প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সদর দফতরে তিনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শিশু ভবনও ঘুরে দেখেন। পরে তাঁর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পরিদর্শনেরও কর্মসূচি ছিল।
কলকাতা থেকে ৪ দিনের ভারত সফর শুরু করলেন মার্কো রুবিও (Marco Rubio):
কলকাতা সফর দিয়েই রুবিওর প্রথম ভারত সফরের সূচনা হওয়াকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শক্তি নিরাপত্তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা, এই সমস্ত বিষয়কে সামনে রেখেই সফরের রূপরেখা তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বিমানবন্দরে রুবিওকে স্বাগত জানান। আন্তর্জাতিক কূটনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতকে অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবেই দেখছে ওয়াশিংটন, সেই বার্তাও এই সফরের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: বেআইনিভাবে নেওয়া হয়েছে সুবিধা! একধাক্কায় ৭ লক্ষেরও বেশি রেশন কার্ড বাতিল করল সরকার
২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত ভারত সফরে কলকাতার পাশাপাশি আগ্রা, জয়পুর এবং নয়াদিল্লিতেও যাবেন রুবিও। সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ আগামী ২৬ মে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা কোয়াডভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত এই জোটের মূল লক্ষ্য হল একটি মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলা এবং ওই অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মোকাবিলা করা। ওই বৈঠকে যোগ দেবেন অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওয়াঙ এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোটেগি। বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
এই সফরের আগেই শক্তি নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন রুবিও। বৃহস্পতিবার মায়ামিতে তিনি জানান, ভারত যত পরিমাণ জ্বালানি কিনতে চাইবে, আমেরিকা তা সরবরাহ করতে প্রস্তুত। আমেরিকায় তেল ও গ্যাস উৎপাদন এখন রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা যে ভারতের অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করছে, সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার অশোধিত তেল সরবরাহ নিয়েও সহযোগিতার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব।

আরও পড়ুন: বেগুন পোড়া বা ভাজা নয়, এবার বানান টক-ঝাল আচার ভর্তা সহজ উপায়ে, রইল রেসিপি
বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থির সময়ের মধ্যে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে ‘অত্যন্ত মজবুত’ বলে বর্ণনা করেছেন রুবিও (Marco Rubio)। তিনি ভারতকে আমেরিকার ‘মহান অংশীদার’ বলেও উল্লেখ করেছেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, গত বছরের ওয়াশিংটনের আলোচনার ভিত্তিতেই এবারের কোয়াড বৈঠকের রূপরেখা তৈরি হয়েছে। সেখানে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। ফলে রুবিওর এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সফর নয়, বরং ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের আগামী দিশা নির্ধারণেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।













