বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে বহুদিন ধরে চালু থাকা ‘দুয়ারে রেশন’ (Duare Ration) প্রকল্প এবার অনিশ্চয়তার মুখে। কেন্দ্রীয় সরকার শুরু থেকেই এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ার কোনও নিয়ম নেই। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও চলছে। এর মধ্যেই রাজ্যে সরকার বদলের পরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এবার কি বন্ধ হতে চলেছে ‘দুয়ারে রেশন’ ব্যবস্থা?
দুয়ারে রেশন (Duare Ration) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে টানাপোড়েন
পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে শুরু হয়েছিল ‘দুয়ারে রেশন’ (Duare Ration) প্রকল্প। এই ব্যবস্থায় রেশন দোকান থেকেই গ্রাহকদের বাড়ির কাছে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়া হত। তবে শুরু থেকেই এই প্রকল্প নিয়ে আপত্তি তোলে রেশন ডিলারদের একাংশ। পরে বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে। সেখানে রাজ্য সরকার ধাক্কা খাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টে মামলা শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালে এই মামলায় যুক্ত হয় কেন্দ্রীয় সরকারও। কেন্দ্রের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে ‘দুয়ারে রেশন’ (Duare Ration) বলে কোনও ব্যবস্থার উল্লেখ নেই। ‘ডোর স্টেপ ডেলিভারি’ বলতে শুধুমাত্র এফসিআই গুদাম থেকে রেশন দোকান পর্যন্ত খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়াকেই বোঝানো হয়েছে, গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়াকে নয়। সম্প্রতি সংসদেও কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী একই অবস্থান স্পষ্ট করেন। এমনকি প্রবীণ নাগরিক বা বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও বাড়িতে গিয়ে রেশন পৌঁছে দেওয়ার কোনও আলাদা নিয়ম নেই বলেই জানানো হয়।
কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে ২৭২ পাতার পিটিশন জমা দিয়ে দাবি করেছে, ‘ওয়ান নেশন ওয়ান রেশন কার্ড’ ব্যবস্থার সঙ্গে ‘দুয়ারে রেশন’ সাংঘর্ষিক। কারণ দেশের যে কোনও প্রান্তের রেশন গ্রাহক যে কোনও দোকান থেকে খাদ্যশস্য নিতে পারেন। কিন্তু বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দিলে সেই ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব নয়। শুধু প্রকল্প বন্ধের দাবিই নয়, রাজ্যের উপর আর্থিক জরিমানার আবেদনও জানানো হয়েছিল আদালতে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য সরকার, কেন্দ্র এবং রেশন ডিলারদের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট রায় সংরক্ষণ করে রেখেছে। এখন সেই রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।
এদিকে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কারণ, ডিএ মামলা থেকে ওবিসি সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে সরকার বদলের পরে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের অবস্থান বদলাতে দেখা গিয়েছে। সেই কারণেই প্রশ্ন উঠছে, এবার কি ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার কেন্দ্রের অবস্থান মেনেই ‘দুয়ারে রেশন’ (Duare Ration) থেকে সরে আসবে?
বর্তমানে দেশের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই এই প্রকল্প (Duare Ration) চালু রয়েছে। রাজ্যে মোট ২০ হাজার ২৬১ জন রেশন ডিলার রয়েছেন। সরকার নির্দিষ্ট কমিশনের পাশাপাশি প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা দেয়। এছাড়া বাড়ি পর্যন্ত খাদ্যশস্য পৌঁছে দিলে কুইন্টাল প্রতি আরও ৭৫ টাকা দেওয়া হয়। তবে রেশন ডিলারদের একাংশের দাবি, এই টাকায় খরচই ওঠে না। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসুর বক্তব্য, চালক, জ্বালানি, মাল তোলা-নামানো মিলিয়ে মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে যায়। উপরন্তু দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক কারণে খাদ্যশস্য নষ্ট হলেও দায় চাপানো হয় ডিলারদের উপরেই। তাই তাঁদের দাবি, এই ব্যবস্থা বন্ধ হওয়া উচিত। এতে বছরে প্রায় ১২১ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

আরও পড়ুনঃ বদলে যাচ্ছে বাংলার সরকারি চিহ্ন! ‘বিশ্ব বাংলা’ লোগো সরাচ্ছে নতুন সরকার, ফিরছে অশোকস্তম্ভ
এর আগেই ডিলারদের দাবিতে আটা সরবরাহ বন্ধ হয়েছে। ফলে এখন প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে এবার কি ‘দুয়ারে রেশন’ (Duare Ration) প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য সরকার?













